যুদ্ধ করতে অস্ত্র নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু এই অস্ত্র সেই অস্ত্র নয়। ফুটবলের নাম অস্ত্র। এই অস্ত্র দিয়ে সমাজকে বদলে দেবেন সাবিনারা। এই অস্ত্র নিয়ে এগিয়ে যাবেন নারী ফুটবলাররা। এমনটাই মনে করিয়ে দিল ফ্রাঞ্চাইজি নারী ফুটবল আয়োজকরা। সোমবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ফ্রাঞ্চাইজি ফুটবলের আয়োজকরা ট্রফি এবং ম্যাচ বলের উন্মোচন করল। ট্রফি উন্মোচনের অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু ম্যাচ বল উন্মোচন হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। যে বলটি দিয়ে খেলা হবে সেটি উন্মোচন করতে দিয়ে জানা গেল এর ছোট্ট ইতিহাস। বলের নাম রাখা হয়েছে অস্ত্র। ফ্রাঞ্চাইজি ফুটবলের আয়োজক কে-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহাদ করিম জানালেন অস্ত্র মানে হচ্ছে উয়েপন। বাংলায় অস্ত্র। যুদ্ধে যাওয়ার অস্ত্র। যেটি নিয়ে নারী ফুটবলাররা ফুটবল যুদ্ধে যাবেন।’ স্বাধীনবাংলা ফুটবল দল বল পায়ে যুদ্ধ করেছিল।
এই ম্যাচ বলটি আরো একটি উদাহরণ তৈরি করে গেল। অফিশিয়াল কোনো ফুটবলের গায়ে বাংলা লেখা সেটিও প্রথম কোনো ঘটনা। পরিষ্কার বাংলায় লেখা অস্ত্র। তৈরি করা হয়েছে ভারতে। বলটা ফিফায় পাঠিয়ে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। তার মানে ফিফার অনুমোদিত ফুটবল দিয়ে খেলা হবে। নারীকে সমর্থন দেয়, উত্সাহ দেয় পিংক রং। সেই রংয়ের ছোঁয়া রাখা হয়েছে ম্যাচ বলে। সোনালি রঙের ২২ ইঞ্চি ট্রফি উন্মোচন করা হয়েছে। ইংলিশ কোম্পানি ইনকারম্যান তৈরি করেছে ট্রফি। ১৮ ক্যারেট গোল্ড প্লেট বসানো হয়েছে। তৈরি করেছেন ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যক্তি সিলভার স্মিথ। চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফি পাবে স্বল্প সময়ের জন্য। চ্যাম্পিয়ন দলকে রেপ্লিকা দেওয়া হবে।
ট্রফি এবং ম্যাচ বল উন্মোচন করতে এসেছিলেন একজন মার্কিন নারী, তিনি ফায়ার আর্চার। ট্রফি এবং ম্যাচ বল উন্মোচন করা হয় ব্যতিক্রম আনুষ্ঠানিকতায়। ফায়ার আর্চার ওড়িসা কেলি। বিশ্বের একমাত্র ফুট আর্চার। পা দিয়ে তীর ধনুকের খেলা খেলেন এই নারী। একটা লোহার স্ট্যান্ডের ওপর হাত ভর করে নিজের পা ওপরে তুলে দিয়ে মাথা নিচের দিকে নামিয়ে দেন। ওপরে দুই পা দিয়ে তীর ধনুক ছোড়েন। নিখুঁত নিশানা তার। প্রথমে ম্যাচ বল উন্মোচন করলেন। করতালিতে হল ভরে গেল। এরপর তীরের মাথায় আগুন লাগিয়ে নিজের হাতটা লোহার স্ট্যান্ডের ওপর রেখে পুরো শরীরটা ভাসিয়ে দিলেন। দুই পায়ে ধনুকটা ধরে জ্বলন্ত আগুনের তীরটা ছুড়লেন পর্দায়। আগুন ধরে গিয়ে উন্মোচিত হলো সোনালি ট্রফি। এমন ঘটনা এবারই প্রথম দেখা গেল।
ওড়িসা কেলি পরে সবার সঙ্গে কথা বলেন। এমন জাদুকরি খেলা কীভাবে আয়ত্ব করলেন ? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০১০ সাল থেকে আর্চারি খেলা শুরু করেছেন। প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা অনুশীলন করেন। এভাবে নিজেকে একাগ্রতার মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন করেছেন বলে জানিয়েছেন ওড়িসা কেলি। তিনি বলেন, ‘আমি আমেরিকান। আমার মা যখন ভারতে ওড়িসায় গিয়েছিলেন তখন আমি মায়ের পেটে। সে কারণে আমার নামের আগে ওড়িসা কথাটা রাখা হয়েছে। আমি ভারতীয় নই।’