গত ২১ এপ্রিল তিব্বতের লাসায় এক হোটেলে প্রবল দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে বিছানার নিচে আবিষ্কার হয় পঁচা লাশ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন থেকে ঝাং নামের এক ব্যক্তি তিব্বতে গিয়েছিলেন। হোটেলে নিজের রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই প্রবল দুর্গন্ধ পান তিনি। কোথা থেকে গন্ধ আসছে বুঝতে পারছিলেন না তিনি। গন্ধ উপেক্ষা করে তিনি বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন। তিন ঘণ্টা পর ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু তখনো দুর্গন্ধ ছিল।
হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার পর তাকে আরেকটি রুম দেওয়া হয় এবং গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে বিছানার নিচে একটি পচা লাশ দেখতে পায় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত শুরু করার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঝাং যে হোটেলে উঠেছিলেন সেটি ছিল গুজাং সুহুয়া ইন। উষ্ণ বাতি ও কাঠের বারান্দার কারণে হোটেলটি জনপ্রিয়। বিশেষ করে ফটোগ্রাফির জন্য। হোটেল ভ্রমণের অনেক ছবি দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঝাং হোটেলে থাকার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অনলাইনে একটি পর্যালোচনাও পোস্ট করেছেন।
কিন্তু শুরুতে সেই পোস্ট এত মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি। তবে গত ২৮ এপ্রিল আরেকজন রিভিউয়ের স্ক্রিনশট নিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। হোটেল কর্তৃপক্ষ পোস্টের নিচের কমেন্ট রুমে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে।
এরপর চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ওয়েইবোতে আবারও নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন ঝাং। প্রমাণ হিসেবে হোটেলে থাকার রশিদের একটি ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি। স্থানীয় গণমাধ্যম তার পোস্টটি লুফে নেয় এবং দ্রুত একটি সাক্ষাতকারের জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করে।
গত ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ঝাং বলেন, 'আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম এবং ভয়ের কারণে এখনও ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না।' তিনি জানান, হোটেল রুমে প্রবেশের পর তিনি কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নেন এবং বিছানায় ঘুমিয়েও পড়েন।
তারপর তিনি উঠে বাইরে চলে যান এবং কয়েক ঘণ্টা পরে ডিনারে যাওয়ার আগে কাপড় পরিবর্তন করার জন্য ঘরে যান। রুমে ঢোকার পর সে আবার পচা গন্ধ পান। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন যে গন্ধটি নীচের বেকারি বা হিটিং সিস্টেম থেকে আসতে পারে।
এমনকি এটা তার পায়ের গন্ধ কিনা তা নিয়েও তিনি ভাবছিলেন। রাতের খাবার থেকে ফিরে আসার পরও ঘরে গন্ধ ছিল তাই তিনি তার ঘর পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। গভীর রাতে এক হোটেল কর্মী তাকে ফোন করে সিঁড়ি বেয়ে তার ছেড়ে যাওয়া কক্ষে যেতে বলেন।
তিনি সেখানে যান এবং দেখতে পান যে পুলিশ তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য সেখানে অপেক্ষা করছে। তার ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তিনি আরও বলেন, 'পুলিশ আমাকে উদ্বিগ্ন হতে নিষেধ করেছে। তারা আমাকে জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করেছে।'
এ বিষয়ে পুলিশ আর কোনো তথ্য দেয়নি। কিন্তু তারা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। অন্য প্রদেশের লানঝৌ শহর থেকে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঝাং জানান, তিনি যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন তা প্রকাশ করতে চাননি।
কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনা অস্বীকার করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে দোষারোপ করায় তিনি সব সত্য নিয়ে এগিয়ে আসতে বাধ্য হন। ঝাং এর পরবর্তী পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়।