কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামুর চাকমারকুল এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে গরু ভর্তি গাড়ি গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা দুই ব্যবসায়ীর ২০ লাখ টাকা লুট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় গরু ব্যবসায়ীদের বেদম প্রহার করা হয়। আহত ব্যবসায়ীরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বুধবার (৩ মে) রাত ৮টার দিকে মহাসড়কের চাকমারকুলের ডেইঙ্গাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত গরু ব্যবসায়ীরা হলেন, চকরিয়া পৌরসভা এলাকার মৃত জাকের আহাম্মদের ছেলে সালা উদ্দিন এবং কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বাসিন্দা মো. হাশেমের ছেলে আবদুল কাদের।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে চকরিয়ার ব্যবসায়ী সালা উদ্দিনের কাছ থেকে সাড়ে ১৭ লাখ এবং আবদুল কাদেরের কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুবৃর্ত্তরা।
আহত ব্যবসায়ী সালা উদ্দিন জানান, তিনি ২০ লাখ টাকা নিয়ে খরুলিয়া গরু বাজারে এসেছিলেন গরু কিনতে। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় ৪ টার বেশি গরু কিনতে পারেননি। এ কারনে বাকি সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ও কেনা গরু গাড়িতে করে চকরিয়া ফিরে যাচ্ছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর রাত ৮ টার দিকে ঝিলংজা-চাকমারকুলের সীমান্ত ডেইঙ্গা পাড়া রাস্তারমাথায় কয়েকটি ডাম্পার দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে তাদের গাড়ি আটকানো হয়। এ সময় অস্ত্রেরমুখে তাদের জিম্মি করে লাথি-ঘুসি মেরে টাকার ব্যাগ কেড়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
একই গাড়িতে ছিলেন আরেক গরু ব্যবসায়ী আবদুল কাদের তিনিও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, মারধরের পাশাপাশি তার কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়েছে লুটকারিরা।
তারা জানান, আমাদের সাথে কারো বিরোধ নেই হঠাৎ কেনো এমন হলো জানি না। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগী দুই ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে লুটকারি দুর্বৃত্তদের পরিচয় পেয়েছেন তারা।
তাদের দাবি মতে দুর্বৃত্তরা হলেন, পশ্চিশ চাকমারকুর ডেইঙ্গাপাড়া এলাকার জহির উদ্দিন (৪৫), আলমগীর (৩২), সাহাব উদ্দিন (৩৫), শাহনেওয়াজ (২৫), জসিম উদ্দিন (৫৫) সাদ্দাম হোসাইন (২৮), একই এলাকার এবাদুল্লাহ (৩০), ছলিম উল্লাহ (৪০), পূর্ব খরুলিয়া ডেইঙ্গা পাড়া এলাকার এরশাদ উল্লাহ (৩২) ও মুন্না (২০)। তারা হাসপাতাল হতে ছাড়া পেলে থানায় অভিযোগ করবেন বলে উল্লেখ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় অনেকে জানান, ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা আগে থেকে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তাদের অনেকের নামে মামলা আছে। কিন্তু তারা এলাকায় খুব প্রতাপশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল হোসাইন বলেন, ডাকাতি বা লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সড়কে ব্যারিকেডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তিনি বলেন, খরুলিয়া বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কের জেরে রাস্তার মাঝখান থেকে গরু কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিলো।
বিষয়টি ফতেখারকুল চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ভট্রো প্রত্যক্ষকারী বলেও দাবি করেন ওসি।