সবাইকে দুঃখ দিয়ে দুঃখ প্রকাশ

সোহাগকাণ্ডে দেশের ফুটবলের অঙ্কের খাতাটা জেনেছে সবাই। ফিফা জানিয়ে দিয়েছিল বাফুফে অঙ্কে ফেল করেছে। হিসাব মেলাতে পারেনি। সহজ হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমলি, যেটা মেনে নেয়নি ফিফা। দায়ভার সোহাগকে নিতে হয়েছে। এই লঙ্কাকাণ্ডের রেশ না কাটতেই বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন এবং সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ ঘটালেন আরেক ঘটনা। সাংবাদিকদের কটূক্তি করে প্রথমে সালাহউদ্দিন ভুল করে দুঃখ প্রকাশ করলেন, ক্ষমা চাইলেন। সেই আগুন শেষ হওয়ার আগেই কাজী নাবিলও দুঃখ প্রকাশ করলেন। তিনিও খুব বাজেভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন। যেসব কথার রেকর্ড প্রকাশ হয়েছে তা বলার মতো না। পথে-ঘাটে মানুষ প্রশ্ন করে সালাহউদ্দিন-নাবিল সাংবাদিকদেরকে কী বলেছেন। কেন এমন কথা বলেছেন।

সালাহউদ্দিনকে যে কোন সাংবাদিক সহজেই ফোনে পান। চেনা-অচেনা নম্বরে কথা বলেন বাফুফে সভাপতি। সাংবাদিকদের কাছেই দোষারোপ করে বলেন, ‘নেগেটিভ নিউজের কারণে স্পন্সর আসতে চায় না। তার পরও সাংবাদিকদের সঙ্গে কখনো সরাসরি খারাপ ব্যবহার করেননি তিনি। সাংবাদিকরাও তাকে শ্রদ্ধা করেছেন। কিন্তু তার মুখ থেকে আসা যে কথাগুলো নিজের অজান্তে রেকর্ড হয়েছে, সেটা শুনে মেনে নিতে পারেননি ক্রীড়া সাংবাদিকরা। দুঃখ পাওয়ার মতোই কথা বলেছেন তিনি। সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফেডারেশন সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সবাই প্রতিবাদ করেছে। ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন বিএসপিএ সালাহউদ্দিনের অনারারী সদস্য পদক থেকে বহিষ্কার করে। 

এই ঘটনার মধ্যেই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে, বাফুফের সহসভাপতি কাজী নাবিলও সাংবাদিকদের সম্পর্কে আপত্তিকর এবং কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন। পরে বাফুফের প্যাডে নাবিল নিজে স্বাক্ষর করে দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, এই ধরনের মন্তব্য করা কোনোভাবেই আমার উচিত হয়নি।’ নিজেদেরকে সংবাদমাধ্যমের মানুষ বলেছেন তিনি। কথা ঠিক। তবে ২০০৮ সালে বাফুফেতে আসার পর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে নাবিলের সম্পর্কটা সুখকর ছিল না। তার ব্যবহারে সংবাদমাধ্যমের কেউ না কেউ বিব্রত হয়েছেন বাফুফেতে। নাবিলের আরেক ভাই কাজী ইনাম রয়েছেন বিসিবিতে। তিনি অন্যরকম। দুজনের সঙ্গে মিল নেই। কর্নেল কাজী শাহেদ আহমেদের (অবঃ) ছেলে নাবিল। ধনী ঘরের সন্তান। সেই অহমিকা তার ব্যবহারে ফুটে ওঠে। তাই হয়তো উঁচু-নিচু মেনে চলেন। কিন্তু সবাইকে এমন বাজে বাজে কথা বলে দুঃখ দিয়ে কতবার দুঃখ প্রকাশ করবেন আপনারা।