সোহেল রানা
চাকরির পরীক্ষা দিতে দিতে আবুলের চাকরির বয়স শেষ হওয়ার উপক্রম। ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরও চাকরি নামের সোনার হরিণ কেন যে তার কপালে জুটছিল না। এলাকার গবেট মার্কা ছেলেরাও এক-আধবার পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেলেও আবুলের কপালে জোটার কোনো লক্ষণও ছিল না।
চাকরি না পেলে বাড়িতে যেমন সমস্যা, তেমনি সমস্যা বাইরেও। এলাকার মুরব্বিদের সঙ্গে দেখা হলেই নানাবিধ প্রশ্নে জর্জরিত হতে হয় তাকে। কেউ কেউ বলে, ‘পরীক্ষা খারাপ হয় বলেই তো আবুলের চাকরি হয় না।’ তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে নাজেহাল আবুল এখন আর মুখ না খুলে সম্পূর্ণরূপে সুপারগ্লু লাগিয়ে চলাচল করে।
এমনই এক পরিস্থিতিতে আবুল চিন্তা করল, সে ডিজিটাল জ্যোতিষ নামে পরিচিত মফিজ বাবার কাছে যাবে। যেই চিন্তা সেই কাজ। একদিন সন্ধ্যা বেলায় মফিজ বাবার কাছে গিয়ে তার সমস্যার কথা খুলে বলতেই মফিজ বাবা আবুলকে বললেন, ‘শুধু পরীক্ষা ভালো দিলেই যে চাকরি হবে তা কিন্তু নয়, পরীক্ষার পাশাপাশি টরীক্ষাটাও ভালো দিতে হবে।’
আবুল মফিজ বাবার কথা বুঝতে না পেরে ‘টরীক্ষা’ বলতে তিনি কী বুঝাতে চাইছেন, তা জানতে চাইল। মফিজ বাবা একটা ভেংচি কেটে আবুলকে বললেন, ‘যে ছেলে ‘টরীক্ষা’ কী জানে না, তার চাকরি হবে ক্যামনে! তোমার চাকরি-টাকরি হবে না বাবা, তুমি এখন রাস্তা মাপতে পার।’
মফিজ বাবাকে রাগান্বিত হতে দেখে আবুল অনেক অনুনয়-বিনয় করে বলল, ‘আমাকে যদি টরীক্ষা কাকে বলে একটু খুলে বলতেন, তাহলে আমার খুব উপকার হতো।’ একটু বাড়তি নজরানা দেওয়ার অঙ্গীকারে মফিজ বাবা তাকে টরীক্ষা কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী বুঝিয়ে দিতে সম্মত হলেন।
মফিজ বাবার থিওরি কাজে লাগিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আবুলের চাকরি হয়ে গেল। এতদিন পর চাকরি পাওয়ার সুবাদে এলাকার বেকার ছেলেরা তার কাছে পরামর্শ নিতে এলে আবুলও ডিজিটাল জ্যোতিষ বাবার মতো পরীক্ষার পাশাপাশি তাদের ভালোভাবে টরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দিতে থাকল। তারাও যখন টরীক্ষা কী জানতে চাইত, তখন আবুল মফিজ বাবার মতো ভেংচি না কেটে খুব সহজেই বলে দিত, ‘পরীক্ষা সংক্রান্ত ঘুষের ডিজিটাল কোড হলো টরীক্ষা।’