এনআইডি কার্ডে নিজ ও মা-বাবার নাম পাল্টেও ১৪ বছর পর ধরা

কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ভয়ে নিজের নাম ঠিকানা বদলে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড) তৈরি করে ১৪ বছর পলাতক ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নুরুল ইসলাম। অবশেষে কালীগঞ্জ থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশের অভিযানে তাকে ময়মনসিংহের গলগন্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। 

গতকাল শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এসব তথ্য জানান কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উখিং মে। গ্রেফতারকৃত নুরুল ইসলাম গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের বাচ্চু মোল্লার ছেলে। পরিবর্তন করা জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম দেন ফারুক মিয়া। সেখানে পিতার নাম রফিক মিয়া ও মাতার নাম নাছরিন এবং ঠিকানা হিসেবে শেরপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ নৌহাটা গ্রাম উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কালীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান জানান, ২০০৮ সালের কালীগঞ্জ থানার আলোচিত হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নুরুল ইসলামকে বৃহস্পতিবার ভোররাতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গলগন্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওসি জানান, নুরুল ইসলাম ২০০৮ সালে উপজেলার ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের ফজলু রহমানের ১৫ বছর বয়সী ছেলে মহিউদ্দিনকে একটি মোবাইল ফোনের জন্য ঐ গ্রামের পাঁচ জন মিলে হত্যা করে মরদেহ বিলের পাশে ফেলে দেয়। পরে চাঞ্চল্যকর মামলার পর থেকেই সকল আসামি পলাতক ছিল। বিচারে আসামিদের সকলকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আসামি নুরুল ইসলাম বাঁচার জন্য নিজের নাম ঠিকানা বদলে এনআইডি তৈরি করে ১৪ বছর যাবত আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি নরসিংদী সদর উপজেলায় বিয়ে করেন। বিয়ের কাগজপত্রে নাম ঠিকানা নুরুল ইসলাম।