মতিঝিলে পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ওই অধিদপ্তরের চাকরি প্রত্যাশিরা। রোববার সকালে মানবন্ধন করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারীরা জানান, পাট অধিদপ্তরের প্রকল্পে যখন তারা ২০১২ সালে যোগদান করেন তখন চাকরির শর্তই ছিলো প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাদের রাজস্বখাতে নিয়োগ দেওয়া হবে। ২০১৭ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর যখন পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সেলিনা আক্তারের কাছে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করার আবেদন করেন, তখন তিনি গড়িমসি শুরু করেন। দীর্ঘদিনেও নিয়োগ না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন চাকরি প্রার্থীরা। পাট অধিদপ্তরের বিরোধিতার পরও ১৫৪ চাকরি প্রার্থীর পক্ষে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। তারপর বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়। আপিলেও চাকরি প্রার্থীরা জয় লাভ করেন। আদেশ পাওয়ার সাথে সাথে চাকরি প্রার্থীদের রাজস্বখাতে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানান চাকরি প্রার্থীরা। ১৫৪জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ২০ জনকে নিয়োগ দেয় পাট অধিদপ্তর। এখনো ঝুলে আছে ১৪৩জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ। তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ঠেকিয়ে দেওয়ার পেছনে পাট অধিদপ্তরে নিয়োগপত্র ছাড়া চাকরি করে যাওয়া ১২১ জন দায়ী বলে অভিযোগ মানববন্ধনকারীদের।
তারা বলেন, পাট অধিদপ্তরে সওগাতুল আলম নামের একজন নিজেই নিজের পদ সৃষ্টি করে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিসহ ১২১জন বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ১৩৪ জনের নিয়োগের বিরুদ্ধে।কারণ ১৩৪জন নিয়োগ পেলে সওগাতসহ অন্যদের প্রতারণা করে সরকারি কোষাগারের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। ১২১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ৫৩ কর্মকর্তার নিয়োগ কোন প্রক্রিয়ায় হয়েছে পাট অধিদপ্তরের কাছে তা জানতে চেয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন। নিয়োগের পক্ষে এখনো পর্যন্ত সঠিক তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি সওগাতুল আলমসহ অন্যরা।