সিরিয়াকে আরব লীগে ফিরে আসার অনুমতি

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা স্থগিতাদেশের অবসান ঘটিয়ে আরব লীগে ফিরেছে সিরিয়া। এক দশক আগে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়নের কারণে আরব লীগ থেকে দেশটিকে বহিষ্কার করা হয়। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার পর আরব বিশ্বে পুনরায় প্রবেশ করায় রোববার (৮ মে) দেশটিকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনটি। রোববার মিশরের রাজধানী কায়রোতে আরব লীগের সদর দপ্তরে সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। 

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা স্থগিতাদেশের অবসান ঘটিয়ে আরব লীগে ফিরেছে সিরিয়া।

সেখানে সিরিয়াকে পুনরায় সদস্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রীদের এক বিবৃতিতে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। তারা একটি সমন্বিত সমাধানে পৌঁছানোর জন্য সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে।

২২ সদস্যের আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল গেইত জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে আরব পক্ষের জন্য দীর্ঘদিন পর সিরীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। 

আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল গেইত

এদিকে আরব লীগে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণার পর সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরব সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে জানিয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন আরব স্বার্থের ভিত্তিতে একটি কার্যকর ও গঠনমূলক আরব দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের নভেম্বরে সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সরকারের দমনপীড়নের কারণে দামেস্ককে আরব লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই বছরের শুরুতে হওয়া বিক্ষোভ দেশটিতে গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়। এই যুদ্ধে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয় এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

২০১১ সালের নভেম্বরে সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সরকারের দমনপীড়নের কারণে দামেস্ককে আরব লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি আরব দেশ সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এছাড়া সৌদি আরব ও কাতার সিরিয়ার বিরোধী দলকে সমর্থন করে। প্রেসিডেন্ট আসাদ সর্বশেষ ২০১০ সালে আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।

আবুল গাইত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আয়োজক দেশ সৌদি আরবের আমন্ত্রণে আগামী ১৯ মে আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আসাদকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি আসাদের কূটনৈতিক বিজয়।