ভবন নির্মাণে দৃশ্যমান স্থানে বসাতে হবে ‘ফায়ার হাইড্রেন্ট’

সম্প্রতি রাজধানীর বঙ্গবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিশ্চয়ই সবার মনে আছে। ঢাকায় প্রায়ই এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় আগুন নেভাতে সময়মত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না পাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যায়। তবে এবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য বহুতল ভবনের সামনে দৃশ্যমান স্থানে ‘ফায়ার হাইড্রেন্ট’ বসানোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জীবন ও সম্পদের বিপুল ক্ষতি হওয়ার পরে টনক নরেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। বহুতল ভবনের সামনে ফায়ার হাইড্রেন্ট দৃশ্যমান না হলে কোনভাবেই দেওয়া হবে না নকশার অনুমোদন।

344374496_231795102831680_8520588823863719474_n

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে রাজউকের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপনের পাশাপাশি অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে অন্যান্য যে নিরাপত্তার বিষয় আছে সেগুলো নিশ্চিত করতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ সংস্থাকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে সাধারণত যে পরিমাণ পানি থাকে তা আগুন নেভানোর জন্য সবসময় যথেষ্ট হয় না। তখন কাছাকাছি কোন জলাশয় বা পুকুর থেকে পানি নেয়া হয়। পুকুর ও জলাশয় ভরাটের ফলে রাজধানীতে কাছাকাছি কোথাও পানি পাওয়া যায় না।

উন্নত বিশ্বে জরুরি সময় পানি সরবারহ করার জন্য ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যা একটি শহরের পানি সংরক্ষণাগারের সাথে যুক্ত থাকে। কাছাকাছি কোথাও আগুন লাগলে এ পয়েন্টে পাইপ লাগিয়ে পানি সরবারহ করা হয়ে থাকে। ঢাকায় বহুতল ভবন নির্মাণে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপনের বিষয়টি আইনে থাকলেও এতদিন রাজউকের তদারকি ছিল না। রাজুকের কাছে অগ্নি নিরাপত্তা প্রসঙ্গটি এক প্রকার অবহেলিত ছিল বলা যায়।