গণতন্ত্র মঞ্চ ছাড়ার নেপথ্যের গল্প শোনালেন রেজা কিবরিয়া ও নুর

সাত দলের জোট গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসার কারণ জানালেন গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক। কিবরিয়া বলেছেন, গণতন্ত্র মঞ্চ তাদের জন্য সঠিক প্ল্যাটফর্ম ছিল না। গণতন্ত্র মঞ্চ থেকে বেরিয়ে এলেও মানুষের অধিকারের জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন তারা।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সোমবার (৮ মে) ‘দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রবাসীদের ভূমিকা ও সংকট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে রেজা কিবরিয়া এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

তবে গণতন্ত্র মঞ্চ ছাড়লেও সরকারের বিরুদ্ধে ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলমান রাখার ঘোষণা দিয়েছেন রেজা কিবরিয়া। পাশাপাশি বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হলেও সরকারি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট করেন এই অর্থনীতিবিদ।

আলোচনা সভায় রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুর।

গণতন্ত্র মঞ্চ কী কারণে ছাড়লেন- এমন প্রশ্নে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘সাংগঠনিক কাজ এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। অবৈধ সরকারকে সরাতে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি অনেক বাড়াতে হবে। গণতন্ত্র মঞ্চের কতটুকু সাংগঠনিক শক্তি আছে, সেটা আপনারাই যাচাই করেন। অবশ্য আমরা আগে থেকেই জানতাম তাদের শক্তি সম্পর্কে। তাদের মাঝে কিছু ভালো লোক আছে। এটা আমরা অস্বীকার করি না। বিশেষ করে মান্না ভাইয়ের মতো এত ভালো রাজনৈতিক বক্তা বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু আসল কথা হলো জনসমর্থন। যা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মঞ্চে থেকে এটা বাড়বে বলে আমাদের মনে হয়নি।’

এসময় তিনি বলেন, ‘সরকারের কোনো লাইনে যাচ্ছি না। সরকারবিরোধী যোগ্য পথেই আমরা চলব।’

nur

রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই গণতন্ত্র মঞ্চে যারা আছেন, তারা যখন সরকারবিরোধী কাজে নামে, আমরাও থাকব। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। তবে এটা ইফেক্টিভ গ্রুপ না।’

নিবন্ধনের জন্য বা নিবন্ধন পাওয়ার কৌশল হিসেবে আপনারা বেরিয়ে আসছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘না ওই দিকে থেকে এটার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের ফোকাস হচ্ছে সাংগঠনিক কাজে। গণতন্ত্র মঞ্চের কর্মসূচিতে সময় দেওয়ার মতো সময় আমাদের নেতাকর্মীদের নেই।

আপনাদের বিএনপির সঙ্গে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো আছি যোগ্য পথে। তারা যে পথে আছেন আমরাও যুগপৎ আন্দোলনে আছি এবং থাকব। এখানে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। আবার নতুন করে এলায়েন্স ফর্ম করার পরিকল্পনাও এই মুহূর্তে নেই।’

kibria

নির্বাচনে আগে অনেক জোট হয়। এমন মুহূর্তে আওয়ামী লীগে সাথে জোট করার আমন্ত্রণ এলে অবস্থান কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না। আমি মনে করি, যারা এদেশের ঘৃণিত ভোট চোর, যারা নিজেদের পরীক্ষিত ভোট চোর হিসেবে প্রমাণ করেছে, তাদের আমাদের থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। ধরে নিতে পারেন এ সম্ভাবনা হচ্ছে জিরো।’

আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রীর ছেলে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে নয়, অন্য বিরোধী দলের সঙ্গে সবসময় আলোচনা চলে এবং সমর্থন আছে। তারা যদি সরকারবিরোধী কোনো কাজ করে আমরা তাদের সঙ্গে আছি, থাকব। এতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। আমরা আমাদের সাংগঠনিক কাজ করছি এবং নিবন্ধনের জন্য অপেক্ষা করছি।’

কী কী কারণে সরকারের বিরোধিতা, এমন প্রশ্নে জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘অনেকগুলো কারণ আছে। এক নম্বরে, তারা ভোট চোর। অবৈধ সরকার। দুই নম্বর হচ্ছে, তারা হচ্ছে দুর্নীতিগ্রস্ত। তিন নম্বর হচ্ছে, গুম হত্যা। তারা এত ঘৃণিত সরকার, ১৫ ভাগ ভোটারও তাদের ভোট দিতে যায় না।’

এ বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক বলেন, ‘আমরা একটা জোটে ছিলাম। সেই জোট থেকে আমরা লিভ (বেরিয়ে আসা) করেছি। কেন করেছি, কোন প্রেক্ষাপটে করেছি, সেটা আমরা বলেছি। একটা কথা স্পষ্ট করেছি যে আমরা জোটে না থাকলেও বর্তমান ফ্যাসিবাদ পতনে, বাংলাদেশকে রক্ষায় বিরোধী দলগুলোর যে যুগপৎ আন্দোলন চলছে, সেই আন্দোলনে আমাদের সর্বাত্মক শক্তি ও সহযোগিতা নিয়ে রাজপথে থাকব।’

বর্তমান সরকার দেশকে সংকটে ফেলেছে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে দেশে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো বলছে, আলাপ-আলোচনা করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। সেই নির্বাচনে যারাই ক্ষমতায় আসবে, তারা আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করার জন্য কাজ করবে। আমরা সবাই সহযোগিতা করব।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রবাসীদের প্রতি বর্তমান সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তাই তারা দাবিগুলোর প্রতি মনোযোগ দিচ্ছে না। আমরা এই সরকারের কাছে ভিক্ষা চাই না। আমাদের এই মুহূর্তের আন্দোলন, এই সরকারের পরিবর্তন।’

প্রবাসী অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে।