বরিশাল : খোকনের উপদেষ্টা কমিটিতে আবুল হাসানাত, নাম নেই সাদিকের

১৬ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের ৯ দিন পর ৩১ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত। সোমবার রাতে ঘোষিত কমিটির তালিকায় প্রথমে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বরিশাল-১ আসনের এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, এরপরে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনের এমপি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, শিক্ষাবিদ, শিল্পপতি, সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে এ উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নাম বাদ পড়লেও উপদেষ্টা কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করায় যে বিভেদের সৃষ্টি হয়েছিল তা মিটে যাবে বলে ধারণা করছেন সিনিয়র নেতারা। তবে উপদেষ্টা কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্য লস্কর নূরুল হক জানান, সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সম্পাদক সিটি মেয়র পদে থাকায় নির্বাচন কমিশনের বিধি লঙ্ঘন হতে পারে এ জন্য তাদেরকে রাখা হয়নি। 

এদিকে উপদেষ্টা কমিটিতে জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যুক্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচন কার্যক্রমে আরো গতি ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল একাধিক নেতাকর্মী। তারা জানিয়েছেন, প্রতীক বরাদ্দ হলেই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সকল ভেদাভেদ ভুলে দলের প্রার্থীর জন্য কাজ করবেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে বর্ধিত সভার মাধ্যমে দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি তালুকদার মো. ইউনুস।

ফয়জুল করিমকে শোকজ : বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাপা প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস ও ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম প্রার্থী হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আভাস পাওয়া গেছে। প্রার্থী হওয়ার পর ঢাকা থেকে এসে এলাকায় যাওয়ার পথে সোমবার বিকালে শোডাউন করেন ফয়জুল করিম। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ায় ঐ রাতেই তাকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠিয়েছেন বরিশাল সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মৌখিক ও লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে ঐ চিঠিতে।

এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সমর্থনে একযোগে সকল ওয়ার্ডে মিছিল, বিভিন্ন ওয়ার্ডে মতবিনিময় সভাসহ নানা কার্যক্রম চলছে। তার দল এ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ায় প্রার্থীর বাসভবনে আসছেন জাপা চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপিসহ তিন জন কো-চেয়ারম্যান ও চার জন প্রেসিডিয়াম সদস্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক আনিসুর রহমান স্বপন জানান, যতই বিরোধ থাকুক আওয়ামী লীগের প্রার্থী একই পরিবারের হওয়ায় তারা সুসংঘটিত রয়েছেন। বিএনপি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ওয়ার্ড পর্যায়ে তাদের নেতারা কাউন্সিলর পদে ভোট করছেন। চরমোনাই দলের (ইসলামী আন্দোলন) শহরে সাপোর্টার কম, তারা মূলত শহরের বাইরের লোক। বর্তমানে নগরীতে ভোটার হয়ে প্রার্থী হয়েছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী পোড় খাওয়া লোক। সেদিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় তিনি ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

রিটার্নিং অফিসার প্রত্যাহার দাবি জাপা প্রার্থীর: নির্বাচনে ইভিএম বাদ দিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ, নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন এবং নির্বাচনে দায়িত্বরত রিটার্নিং অফিসারকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস। এ নিয়ে এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর ডাকযোগে একটি দরখাস্ত পাঠিয়েছেন বলে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে জানিয়েছেন জাপা প্রার্থী। তিনি বলেন, নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে আগে ব্যালটে ভোট করতে হবে। সেই সঙ্গে আমাদের প্রতি বিমাতাসূলভ আচরণ পরিহার করতে হবে। আর যিনি রিটার্নিং অফিসার রয়েছেন তাকেও প্রত্যাহার করতে হবে।