প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে কানাডিয়ান কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে চীন

কানাডার এক সংসদ সদস্য ও তার পরিবারকে ভয় দেখানোর অভিযোগে চীনের কূটনীতিক ঝাও ওয়াইকে বহিষ্কার করেছে কানাডা। এর প্রতিশোধ হিসেবে মঙ্গলবার (৯ মে) সাংহাইয়ের কানাডিয়ান কনস্যুলেটে কর্মরত এক কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে চীন। ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

কানাডার এমপি মাইকেল চং ও তার পরিবারকে হংকংয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে গত সপ্তাহে কানাডার দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়। চীনা কূটনীতিক ঝাও এই কাজে জড়িত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়৷

চীনের কূটনীতিক ঝাও ওয়াই

উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে চীনের সমালোচনা করে কানাডার পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন মাইকেল চং। ২০২১ সালের একটি গোপন নথির সূত্রের বরাত দিয়ে গ্লোব অ্যান্ড মেইল এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনের পর চীনের কূটনীতিককে বহিষ্কার করে কানাডা।
 
এ প্রসঙ্গে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জলি বলেন, 'আমি পরিষ্কার ভাবে বলেছি, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ আমরা সহ্য করব না। কানাডায় কর্মরত কূটনীতিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণে লিপ্ত হলে তাদের বহিষ্কার করা হবে।'

মাইকেল চং।

তবে বেইজিং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছে, অভিযোগগুলো 'সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন' ও অপপ্রচার। কানাডা যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নির্বিচারে আচরণ করে, তাহলে তারা চীনের দৃঢ় ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হবে।

এদিকে অটোয়ায় চীনের দূতাবাসের এক মুখপাত্র কানাডার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছেন। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের 'চীন বিরোধী' এজেন্ডায় যোগ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালে চীনের হুয়াওয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে কানাডা।

২০১৮ সালে চীনের হুয়াওয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে কানাডা।

এর প্রতিশোধ হিসেবে কানাডার দুই নাগরিককে আটক করে চীন। এছাড়া ২০১৯ ও ২০২১ সালের কানাডার নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চেয়েছিল বলে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে।