‘দ্য কেরালা স্টোরি’ সিনেমাটি নিয়ে বিতর্ক বেরেই চলেছে। বিতর্কের মুখে পড়ে ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর প্রেক্ষাগৃহ থেকে এই সিনেমা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এবার পশ্চিম বাংলাতেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে এই সিনেমাটি। সিনেমাটির মুক্তি আটকাতে সুপ্রিম কোর্টে পর্যন্ত গিয়েছে মুসলিম সংগঠন।
সিনেমাটির গল্পে হিন্দু মহিলাদের উপর ইসলাম আগ্রাসনের কাহিনি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যা ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা উস্কে তোলার জন্য যথেষ্ট বলেই মনে করছেন অনেকে।
সিনেমায় শালিনী উন্নিকৃষ্ণণ থেকে ফাতিমায় রূপান্তরিত হতে হয় নায়িকা আদা শর্মাকে। সন্ত্রাসীদের একজন কলেজ ছাত্রী সেজে ঢুকে পড়ে নার্সিং কলেজে। তারপর সেই কৌশলে শালিনীকে যোগ দেওয়ায় নিজেদের দলে। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রকে বোরখায় মুখ ঢাকতে হয়। কেরলের ভিন ধর্মাবলম্বী, মূলত হিন্দু ও খ্রিস্টান মেয়েদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করে জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিস-এ যোগদান করানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সিনেমাটির কাহিনি লেখা হয়েছে ধর্মান্তরিত নারীর অসহায় জীবন সংগ্রামই এই ছবির মুখ্য উপজীব্য।
সমস্যা হচ্ছে সিনেমাটি মুক্তির আগেই কংগ্রেস নেতা শশী থারুর থেকে পিনারাই বিজয়ন এই ছবি ব্যান করার দাবি তুলেছিলেন। তাদের অভিযোগ, কেরলের পরিস্থিতিকে বিকৃত এবং অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে। কেরলাকে বলা হয়েছে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর। তাই এছবি মুক্তি পেলে অশান্তি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এবার সেই পথে হাঁটলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
যদিও পরি চালক সুদীপ্ত সেন দাবি করেছেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। তিনি বলতে চেয়েছেন, সিনেমাটি পুরোপুরি সন্ত্রাসবাদবিরোধী , যার নেপথ্যে রয়েছে অনেক গবেষণা, পরিশ্রম এবং তথ্যের বিশ্লেষণ।এটি একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে বলেও দাবি করেছেন তিনি ।
সিনেমা তৈরির পরে বিতর্কের ঝড়ের সামনে পড়ে বেশ কিছু দৃশ্যের ছাঁটাই করেছেন পরিচালক। তারপরেই সেন্সর বোর্ডে ছাড়পত্র পেয়েছেল সিনেমাটি। যেমন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভিএস অচ্যুতানন্দের সাক্ষাৎকারের অংশ বাদ পড়েছে সিনেমায়। বেশ কিছু দৃশ্যে হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে সংলাপ ছিল, সে সবই বাদ দেয়া হয়েছে। এমনকি ভারতীয় কমিউনিস্টদের নিয়ে মন্তব্যেও কাঁচি চালানো হয়েছে ।
তবে এত কিছুর পরেও সমালোচকরা বলছেন, সিনেমা হিসেবে কোন নাম্বারই দেয়া যায়না দ্যা কেরালা স্টোরিকে । তাদের মতে, রাজনৈতিক-সামাজিক ভাবে নানা বিষয়ে দৃষ্টি দিতে গিয়ে নির্মাণের দিকে তেমন গুরুত্বই দেননি পরিচালক। ফলে একাধিক দৃশ্যকে অযৌক্তিক মনে করেছেন তারা। যেমন উন্নিকৃষ্ণণকে ধর্মান্তরিত করার পদ্ধতিটিও একেবারেই বুদ্ধিদীপ্ত নয়। সেইসব দৃশ্যগুলিতে কলেজ ছাত্রীদের মধ্যেকার কথোপকথনও একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।
এদিকে এই সিনেমাকে ঘিরে একাধিক বিরুদ্ধমত তৈরি হলে সেগুলির বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি। তিনি টুইটারে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, ’যারা ‘দ্য কেরালা স্টোরি’কে নিষিদ্ধ করার জন্য রব তুলেছেন তারা ‘লাল সিংহ চড্ডা’কে নিষিদ্ধ করতে চাওয়ার দলের মতো একই ভুল করছেন।’শাবানার দাবি, ’সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম থেকে প্রশংসাপত্র সিনেমাটি নিষিদ্ধ করতে চাওয়া আর সংবিধানকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া একই অপরাধ। কারও এই অধিকার নেই।’
তবে এত বিতর্ক স্বত্ত্বেও দ্য কেরালা স্টোরি-র বক্স অফিস আয় মন্দ নয়। যে সমস্ত শহরে এই সিনেমাটি চলেছে সেখানে হলগুলিতে ভালই ভিড় ছিল দর্শকদের। হয়তো বিতর্কই ‘দ্য কেরালা স্টোরি’র পক্ষে শাপে বর।