৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা 

মাদারীপুর জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আংশিক কার্যক্রম চালু হয়েছে সাড়ে তিনবছর হলো অথচ মিলছে না রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা। হাসপাতালের ২৬৭টি পদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ ১০২টি পদ খালি থাকায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা, বরিশাল ও ফরিদপুর মেডিকেলে কলেজে প্রেরণ করায় খরচের সঙ্গে বেড়েছে ভোগান্তি। এতে ক্ষুব্ধ রোগী ও এলাকাবাসী। 

জানা যায়, ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যার সাততলা ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। সেজন্য তিন কোটি টাকা মূল্যের সিটি স্ক্যান মেশিন, ডিজিটাল এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ১০টি কার্ডিয়াক মনিটরসহ কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় অলস পড়ে রয়েছে এসব যন্ত্রপাতি। ফলে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান এসব আধুনিক যন্ত্রপাতি। প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভিড় করছেন শত শত রোগী। কিন্তু এখনো মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। এতে হাসপাতালে আসা রোগী, স্বজন ও এলাকাবাসীরা ক্ষুব্ধ । 

madaripur-1

সদর উপজেলার কালিকাপুর থেকে মা হালানী বেগমকে নিয়ে আসা রাজীব মাতুব্বর বলেন, অসুস্থ মাকে হাসপাতালে রাতে নিয়ে আসছি। সকাল হয়ে দুপুর, এখনো ডাক্তার পাইনি। জরুরি বিভাগে একটু চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করে দিয়েছে, নার্স আসে-যায়, কিন্তু কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। 

বালিগ্রামের মনোয়ার মিয়া বলেন, জনগণের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু চালু হচ্ছে না। তাহলে নতুন ভবন নির্মাণ করে কি লাভ হলো। দ্রুত এই হাসপাতাল চালুর দাবি জানাই। 

Takerhat 250 Bed Hospital Picture-3

‘নিরাপদ চিকিৎসা চাই’-সংগঠনের  মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, হাসপাতাল চালুর দাবিতে বিক্ষোভ, অনশন, মানববন্ধনের পাশাপাশি গত বছরের ১৪ নভেম্বর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এই হাসপাতাল। অথচ, এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি জনবল। এতে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেনা রোগীরা। দ্রুত এই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ চালু করা হলে, উন্নত সেবা পাবেন জেলাবাসী। তাই, জনস্বার্থে এটি পূর্ণাঙ্গ চালু করা দরকার।

Takerhat 250 Bed Hospital Picture-4

মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. মুনীর আহম্মদ খান বলেন, হাসপাতালের জনবল নিয়োগের আবেদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ চালু হবে নতুন এই হাসপাতাল। বিভিন্ন উপজেলা থেকে কিছু সংখ্যক জনবল এনে ১০০ শয্যার পাশাপাশি আরও ৫০ শয্যা বাড়িয়ে এখন মোট ১৫০ শয্যার হাসপাতাল চালু রয়েছে। চাহিদা মোতাবেক সব জনবল পাওয়া গেলে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ চালু করা সম্ভব হবে।