বিশেষ সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিশেষ সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ মে) বিকালে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন সম্প্রতি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক জামাল হোসেন বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় উপজেলা কার্যালয়ে বিশেষ সভার আহ্বান করেন। 

Faridpur AL Clush Pic-6

এ সভাকে অসাংগঠনিক দাবি করে ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর সমর্থকেরা সভা বানচাল করতে দুপুর থেকেই দলীয় কার্যালয়ে ও সদরের প্রবেশের বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয়। বিকাল চারটার দিকে জামাল হোসেন মিয়া নেতা-কর্মী নিয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে আসার পথে কুমার নদের ব্রিজে পৌঁছালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে। 

Faridpur AL Clush Pic-1

অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়া বলেন, সাংগঠনিকভাবে জেলা কমিটি আমাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছে। দায়িত্ব পেয়ে উপজেলা কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সভা আহবান করেছি। এমপি লাবু চৌধুরীর হুকুমে সভা বানচাল করতে আমাকে বাধা সৃষ্টি করে। আমার সমর্থকরা বাধা উপেক্ষা করে দলীয় অফিসে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সভা শেষ করে চলে এসেছি। পরে শুনতে পেয়েছি তারা অফিস ভাঙচুর করেছে।

Faridpur AL Clush Pic-4

সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী বলেন, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ পদে থাকা কোনো নেতা কনিষ্ঠ পদে ভারপ্রাপ্ত হতে পারবেনা। এ বিষয়ে নেত্রী বরাবর আবেদন করেছি। এর মধ্যেই জামাল হোসেন কিছু লোক নিয়ে দলীয় অফিসে এসে অফিস ভাঙচুর চালায়। এ সময় অফিসে থাকা আসবাবপত্র, ভাঙচুর করে। এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

Faridpur AL Clush Pic-2

নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, যেহেতু সভাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষ মুখোমুখি ছিল, তাই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম যেন বড় ধরনের সহিংসতা না হয়। ফাকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে।