ঘূর্ণিঝড় মোখা’র শঙ্কায় আধা-পাকা ধান কাটছে মাদারীপুরের কৃষকরা

ঘূর্ণিঝড় মোখা’র প্রভাবে ক্ষতির শঙ্কায় আধা-পাকা ধান কাটছে মাদারীপুরের কৃষকরা। বিগত বছরগুলোতে ঝড়ে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ায় এ বছর আগেভাগেই ধান কাটছেন তারা। 

মাদারীপুর জেলা কৃষি অফিস ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পাকা ধান কেটে ঘরে তুলতে পরামর্শ দিয়েছে। জেলার ৫৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে বলেও জানায় কৃষি অফিস।

মাদারীপুরের গৌদি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দলবেধেঁ ধান কাটছেন কৃষক। চলতি বোরো মৌসুমে ফলনও ভালো হয়েছে, তবে ঘূর্ণিঝড় মোখার ভয়ে আগেভাগেই ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। সার, বীজ সংকট আর পানি সেচের অভাবেও দমে যায়নি চাষিরা। যে কারণে ফলন দেখে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও ঝড়ের কারণে চিন্তার ছাপ কৃষকের চোখে-মুখে।

স্থানীয় কৃষক মিলন ভূঁইয়া জানান, আমার প্রায় তিন বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। ধানও মোটামুটি ভালো হয়েছে। আর সপ্তাহখানেক মাঠে থাকলে ধানটা পুরো পুষ্ট হতো, কিন্তু শুনতেছি শীঘ্রই নাকি ঝড়-তুফান হবে। তাই আগেভাগেই ধান ঘরে উঠাইতেছি। এতো কষ্টের ফসল যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর রেখেই ধান কাটছি।

আরেক কৃষক জানান, গতবারও ধান পাকার শেষ দিকে ঝড় এসে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবার আর সেই ভুল করবো না, ক্ষতির আগেই ধান কাইটা ঘরে তুলবো। তবে আগের মতো আর ধানে লাভ নাই। সার, বীজ আর সেচের কারণে লাভের চেয়ে লসই বেশি হয়। তারপরে যদি ঝড়ে ক্ষতি হয়, তাহলে আমাদের বাঁচার পথ থাকবে না।

মাদারীপুর জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় ৩৩ হাজার ৫৬৬ হেক্টর জমিতে রোপা বোরো আবাদ হয়েছে। যা গতবারের চেয়েও ৫৫০ হেক্টর বেশি। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ২২০ মেক্ট্রিক টন ধান। যেখান থেকে চাল উৎপাদনের পরিমাণ হবে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৫ মেট্রিকটন।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সন্তোষ চন্দ্র চন্দ জানান, মাদারীপুর জেলায় ইতিমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ধান পেকেছে। মাঠে এখনো ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কাঁচা ধান রয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের আগেভাগে ধান কাটার পর্রামশ দিচ্ছি। আশা রাখি ১৫ থেকে ১৬ মের মধ্যে পুরো ধান পেকে যাবে, তবে ভয়ের কারণে আগেই ধান কাটতে কৃষকদের অনুরোধ করা হচ্ছে।