ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ 

সেন্ট মার্টিন ছাড়ছেন মানুষ, মোকাবিলায় প্রস্তুত প্রশাসন 

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’য় সম্ভাব্য ক্ষতির তালিকায় রয়েছে দেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন, টেকনাফ ও মহেশখালী-কুতুবদিয়া। কিন্তু সেন্ট মাটিনে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র প্রভাব এখনো প্রকট না হলেও সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যাওয়া ও ব্যবসায়ী কাজে আসা মানুষ ট্রলার যোগে টেকনাফ ফিরে গেছে বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান।

তিনি জানান, উপকূলের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার সেই পরিস্থিতি এখনও হয়নি। তবে দ্বীপবাসীকে সতর্ক থাকতে প্রত্যেক গ্রামে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। দ্বীপে আশ্রয়কেন্দ্রসহ সুউচ্চ হোটেলগুলো প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি তৈরি রাখা হয়েছে দ্বীপের সিপিপির ১৩ শ’ স্বেচ্ছাসেবী। কিছু লোক আগে থেকে এখানে ব্যবসায়ীক কাজে বা আত্মীয় স্বজনদের কাছে বেড়াতে এসেছিল তারা দ্বীপ ছেড়ে গেছে।

coxbazar sentmartin-2

চেয়ারম্যান আরও জানান, শুক্রবার থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট নৌ পরিবহন সংগঠনের লোকদের বলা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের রহমত উল্লাহ জানান, দ্বীপের মানুষ অতীতেও বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা করে এসেছে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবসময় প্রস্তুত আছি। তবে এই দ্বীপে টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে ব্যবসায়ীক কাজে ও শ্রমিক হিসেবে আসা লোকজন বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকালে কাঠের নৌকা করে তাদের বাড়িতে ফিরে গেছে। তবে দ্বীপের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক আছে।

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র সম্ভাব্য ক্ষতি মোবাবিলায় টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিজিবির সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আমরা দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছি। 

coxbazar sentmartin-1

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ টেকনাফে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’য় সম্ভাব্য সকল ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্বীপের জন্য আমাদের নৌবাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি দ্বীপে বিজিবি, পুলিশ, কোস্ট গার্ড সদস্যরা সর্তক অবস্থানে রয়েছেন।

সেন্টমাটিন ও শাহপরীর দ্বীপে হোটেল ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত আছে। হটলাইন খোলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ স্বেচ্ছাসেবী সদস্যদের প্রস্তুত রাখার সঙ্গে সেন্টমার্টিন-শাহপরীর দ্বীপে বাসিন্দাদের সচেতনতার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে আসার জন্য আগে থেকে বলা হয়েছে।