লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের চরাঞ্চলে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে আতঙ্কিত উপকূলের বাসিন্দারা। নতুন করে আবার শক্তি সঞ্চার করে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোখা। এভাবেই বিভিন্ন ঝড়ে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারলেও প্রতিবার তাদের বসত ঘর, ফসলি জমি, গবাদি পশু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইতোমধ্যে লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় এলাকা এবং চরগুলোতে ৮নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।
এরপর থেকেই গভীর নদীতে থাকা জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রেখে উপকূলে ফিরে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত নদীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় কিছু কিছু জেলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থান নিয়ে মাছ শিকার করছেন।
স্থানীয়রা জানায়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের উপকূলের মেঘনা নদী ও সাগর এলাকায় প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে আসছে। ঝড় এলেই তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে জলোচ্ছ্বাসে আক্রান্ত হন তারা। আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ নিয়ে ভয়ের মধ্যে রয়েছে। উপকূল জুড়ে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে হরামেশা কোনো না কোনো বিপর্যয়ের শঙ্কা থাকেই চরাঞ্চলে। স্বাভাবিকভাবে এসব দুর্যোগকে কেন্দ্র করে নদী ভাঙনও বেড়ে যায় বিভিন্ন পয়েন্টে।
এমন পরিস্থিতিতে উঁচু বাঁধের ও নদী ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানিয়েছেন উপকূলবাসী।
এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে দুর্যোগপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। রাত থেকে নদীর পাড়ে কোস্ট গার্ডের বেশ কয়েকটি দল মানুষকে সচেতন করতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে উপকূলের বিভিন্ন পয়েন্টে।
অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় মোখায় ক্ষতির শঙ্কায় ক্ষেতে থাকা পাকা ও আধা পাকা ধান কেটে নিচ্ছে কৃষকরা। এছাড়া অন্যান্য পরিপক্ক ফসলও ঘরে তোলার আহ্বান জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন দাশ বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে মেঘনা নদীসহ উপকূলের বাসিন্দাদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে তাদের সব ধরনের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তায় প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ বাহিনী ও চিকিৎসা সেবায় মেডিকেল টিম। সতর্কতা সংকেত বাড়ানো হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/আরএজে