মোখার প্রভাবে কক্সবাজারে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, ঝরছে বৃষ্টি

অতি প্রবল রূপ নেওয়া ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে কক্সবাজারের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। শুক্রবার (১২ মে) দিবাগত রাত থেকে চলছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। সাগর তীর বা খোলা এলাকায় হালকা বাতাস প্রবাহিত হলেও অন্য সবখানে গুমট ভাব বিরাজ করছে। ভ্যাপসা গরমে হাসফাস অবস্থা।

কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেতসহ দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান।

তবে কেউ বাসাবাড়ি ছাড়ছেন না। অবহেলা না করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষে মাইকিং করছেন রেড ক্রিসেন্টের সিপিসি স্বেচ্ছাসেবক দল।

সমুদ্র বন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। ছবি: ইত্তেফাক

শুক্রবার সকাল প্রখর রোদ থাকলে বিকেল ৩টার পর থেকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। ২৫ মিনিট পর আবারো আকাশে রোদ উঠে। এরপর রাত থেকে শুরু হয় হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। শনিবার সকাল হতে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। মোখা ১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে বেশি আঘাত হানতে পারে, এমনটি প্রচারণা চলায় ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আতংক বিরাজ করছে। শুক্রবার বিকেলের বৃষ্টির পর লবণ উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। 

প্রচার-প্রচারণার পরও কেউ বাসাবাড়ি ছাড়ছেন না। ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরারটেক এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ ও জোহুরা খাতুন দম্পতি জানান, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের পরিবার কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল খুদিয়ারটেক ছিলাম। ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় সেই জলোচ্ছ্বাসে পরিবারে আট সদস্য পানিতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর কক্সবাজার এসে নাজিরারটেক এলাকায় বসতি গড়েছি। এখন মোখার ভয়বহতা নিয়ে প্রচারণা চলায় আমরা আগে ভাগে আশ্রয় কেন্দ্রে চলে এসেছি।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানান, মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৮নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যাচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা শুরু হলে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে।

নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষে মাইকিং করছেন রেড ক্রিসেন্টের সিপিসি স্বেচ্ছাসেবক দল। ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজার ট্রলার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমেদ বলেন, সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় অধিকাংশ মাছধরা ট্রলার ঘাটে ফিরেছে। কেউ কেউ সমুদ্রতীরের বিভিন্ন ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোখা কক্সবাজার উপকূল এবং টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে আঘাত হানার সম্ভাবনার কথা বলায় সাগরে থাকা ট্রলারে শুক্রবার কল করে তীরে আসতে তাগাদা দিয়েছে বহদ্দাররা। যারা সংকেত সম্পর্কে বুঝছে না তাদেরও সতর্ক করার পাশাপাশি তীরে আনার চেষ্টা চলছে।

কক্সবাজার জেলা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) কর্মকর্তারা জানান, দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে করণীয় সম্পর্কে আগাম সকল প্রস্তুতি নিতে রেড ক্রিসেন্টের উপকূলীয় এলাকার টিমগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক টিমও তৈরি রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল প্রখর রোদ থাকলে বিকেল ৩টার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবু সুফিয়ান জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সাগরে ৮নম্বর মহাবিপদ সংকেত চলছে। বইছে মাঝারি হাওয়া। সৈকতে ঢেউও বাড়ছে। মোখা প্রবলতা ও সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার ৫৭৬টি আশ্রয় কেন্দ্র ও ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক।