রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল ভিক্টর সকোলোভ বলেছেন, ক্রিমিয়ার বন্দর সেভাস্তোপোলকে লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে নৌঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার তিনি এ মন্তব্য করেছেন। এদিকে ক্রিমিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই রুশ পাইলট নিহত হয়েছেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ খবর জানিয়েছে।
ভিক্টর সকোলোভ বলেছেন, ভূপৃষ্ঠে ও পানির নিচে রোবোটিক হামলার হুমকিজনিত কারণে নৌবহরের প্রধান ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলোর কারিগরি প্রতিরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়া আক্রমণের পর সেভাস্তোপোলে দফায় দফায় ড্রোন হামলা হয়েছে। এসব হামলার দায় সরাসরি স্বীকার করেনি ইউক্রেন। বিশেষ করে ক্রিমিয়ায় হামলার কথা কিয়েভ কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করে আসছে। ২০১৪ সালে এই উপদ্বীপ দখল করে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করেছিল রাশিয়া। এই দখলকে স্বীকৃতি দেয়নি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। সকোলোভ বলেছেন, কৃষ্ণসাগরীয় রুশ নৌবহর ২০২৩ সালে নতুন চারটি যুদ্ধজাহাজ পেতে যাচ্ছে। এই নৌবহরের ফ্ল্যাগশিপ যুদ্ধজাহাজ ছিল মস্কোভা। ২০২২ সালের এপ্রিলে ইউক্রেনীয় হামলায় এটি ডুবে যায়।
এদিকে অধিকৃত ক্রিমিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই রুশ পাইলট নিহত হয়েছেন। প্রধান আঞ্চলিক শহর ঝানকয় থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে স্বেতলো গ্রামের কাছে শুক্রবার হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয় বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, দুই-আসনের এমআই-২৮ অ্যাটাক হেলিকপ্টারটিতে কোনো গোলাবারুদ ছিল না। প্রশিক্ষণের জন্য এটিকে উড়ানো হয়েছিল। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, বিধ্বস্তের ঘটনায় অন্য কোনো হতাহত বা সম্পত্তির ক্ষতি হয়নি। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
এ ধরনের হেলিকপ্টার সাধারণত একটি ৩০-মিমি স্বয়ংক্রিয় কামান দিয়ে সজ্জিত থাকে। এটি ১৬টি গাইডেড এবং আনগাইডেড অ্যান্টি-আরমার মিসাইল বহন করতে পারে। এর আগে এপ্রিলের শেষের দিকে উত্তর রাশিয়ায় প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় একটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ঐ দুর্ঘটনার ফলে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। দুই পাইলটই নিরাপদে বের হয়ে যান। বিমানটিও একটি নির্জন এলাকায় আছড়ে পড়েছিল।