সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে দল থেকে অব্যাহতি

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মজিবুল হককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাযিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় পুলিশ ইনভিস্টিগেশন অব ব্যুরো (পিবিআই) তদন্তের জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়ায় সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ওরফে গুজা রুহলকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রহমান (বিকম) ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি। 

নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি বলেন, পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে চার্জশিটে তার নাম থাকায় আদালতে এবং চার্জশিট দাখিলের পূর্বেই আনুমানিক ৭ থেকে ৮ জুন জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরী সভায় তাকে দল থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রফেসর মজিবুল হককে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে দল থেকে অব্যাহতি প্রাপ্ত ও গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিনের রঙ্গিন পোস্টারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত পোস্টার বড় আকারে ছাপিয়ে সোনাগাজী উপজেলা ও ফেনী শহরের অলিতে গলিতে-রাস্তায়, পিলারে সহ বিভিন্ন জায়গায় সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে রুহুল আমিনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি চেয়ে পোস্টারিং করার ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি থেকে জানতে চাইলে, তিনি বলেন-বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বজনের। যে কেউ তাদের ছবি দিয়ে পোস্টারিং করতে পারে। তবে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে রুহুল আমিনের ছবির সাথে বঙ্গবন্ধু জননেত্রী শেখ হাসিনার পোস্টারিং সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, রাতের আঁধারে কে বা কাহারা এ ধরনের কার্যকলাপ করেছে, তা তিনি খতিয়ে দেখছেন বলেও ইত্তেফাককে জানান। 

এদিকে গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামীয়া ফাযিল মাদ্রাসা আলীম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফীকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন ওরফে গুজা রুহল কে ঘটনায় জড়িত থাকার প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়ায় পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে এবং বর্তমানে সে জেল কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় আছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি