নির্বাচনি জটিলতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে মেহেরপুরের ক্রীড়াঙ্গন

মেহেরপুরের জমজমাট ক্রীড়াঙ্গন এখন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। যেখানে খেলাধুলায় মুখরিত ছিল, সেখানে মাঠ থাকলেও খেলা নেই। নির্বাচনি জটিলতায় থমকে রয়েছে খেলা। ১২ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে চলছে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম। তবে, কারো মতে জেলা ক্রীড়া সংস্থায় নির্বাচিত কমিটি না আসার পেছনে দায়ী সংগঠকরা।

মেহেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালে। তারপর মেয়াদ শেষে ২০১২ সালে কমিটির নির্বাচন হওয়ায় কথা থাকলেও হয়নি। শেষ নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সালেহ উদ্দীন আহমেদ আবলু। বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দকৃত অর্থ তছনছ করার অভিযোগে সালেহ উদ্দীন আহমেদ আবলুকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে তাকে বাদ দিয়ে নির্বাচন দিতে গেলে আবলু মামলা করেন। সেই মামলার অজুহাতে দীর্ঘদিন আটকে রয়েছে নির্বাচন।

শহরের ইয়োলো ক্রীড়া চক্র, ব্রাইট স্টার ক্রীড়া চক্র ও ক্লাসিক ক্রিকেট দলের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, মেহেরপুর থেকে সব ধরনের খেলাধুলা প্রায় উঠে গেছে। মামলা জটের কারণে, ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন হয় না। জেলার এক জন প্রতিমন্ত্রী থাকলেও তাকে কোনো ভূমিকাও নিতে দেখা যায় না। সরকারি কর্মকর্তারা পরিচালনা করছেন এই ক্রীড়া সংস্থাটি।

গতকাল রোববার (১৪ মে) বিকেলে দেখা যায় অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম স্বপন অফিস পাহারা দিচ্ছেন।  মেহেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য ও মেহেরপুর পৌর সভার প্যানেল মেয়র শাহীনুর রহমান রিটন বলেন, প্রায় ১২ বছরের কাছাকাছি মেহেরপুর ক্রীড়া সংস্থা ক্রিকেট লিগের কোনো আয়োজন করতে পারেনি। এছাড়া কমিটির নির্বাচনও প্রায় ১২ বছর হয়নি। একটা অবৈধ কমিটি দিয়ে চলছে ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম।

আমি মনে করি, রাজনৈতিক কারণেই ১২ বছর যাবত্ কমিটির নির্বাচন হয়নি। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, সাধারণ সম্পাদকের অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির জন্যই যদি ১২ বছর যাবত্ কমিটি গঠন করা সম্ভব না হয় তাহলে বেআইনি কমিটি দিয়ে কীভাবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাটি ভরাট, গ্যালারি তৈরি, রং করণ ও মার্কেট নির্মাণ হয়েছে। এই কমিটির এক্তিয়ার আছে কি না, জানতে চান তিনি। শাহিনুর রহমান রিটন বলেন, জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে পারেন। কমিটি না থাকার কারণে খেলাও হচ্ছে না। মেহেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালেহ উদ্দীন আহমেদ আবলুের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে কয়েক বার নিজেই সময় দিয়েও তিনি কথা বলেননি।

মেহেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মৃধা মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১২ সালে নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর একটি মামলা থাকার কারণে বিভিন্ন সময়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় এখনো ছয় সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি আছে। এই কমিটির মাধ্যমেই ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মেহেরপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি সদ্য মেহেরপুরে যোগদান করেছি। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সব সময় সচল রাখা উচিত। কারণ, ক্রীড়াঙ্গনের মডেল রোল প্লে করে জেলা ক্রীড়া সংস্থা। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সচল রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।