দেশের দাবায় খুদে খেলোয়াড়দের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মাস্টার ফাহাদ রহমান এখন নতুনদের কাছেও প্রেরণা। কয়েক দিন আগে বিশ্বকাপ দাবায় ছেলেদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ফাহাদ রহমান। খেলবেন বিশ্বকাপ দাবায়। এই দাবাড়ু সব সময় বলে আসছেন বিদেশি কোচের কথা। এক জন বিদেশি কোচ হলে খুব ভালো হয়। ফাহাদ তুলনা করলেন ফুটবল এবং ক্রিকেটের সঙ্গে। সেখানে বিদেশি কোচ বছর জুড়ে রাখা হয়। ফাহাদের দাবি ফুটবল ক্রিকেটের মতো দাবায় বিদেশি কোচ রাখলে ভালো হতো।
তিনি বললেন, ‘ফুটবল এবং ক্রিকেটে কোচ সব সময় একটা পরিকল্পনা করতে পারছেন। খেলোয়াড়রা সব সময় কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন। দাবায় যদি বিদেশি কোচ রাখা হয় তাহলে বছর জুড়ে গৃহশিক্ষকের মতো খেলোয়াড়দের পাশে থাকতে পারবেন কোচ।’
ফুটবল ক্রিকেটের কোচরা জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মন, মাসুক মিয়া জনি, রহমত মিয়া কিংবা সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালদের প্রয়োজনে কাজ করতে পারছেন। খেলা বাইরেও পরামর্শ দিতে পারছেন। ঠিক তেমনি দাবায় বিদেশি কোচ রাখা হলে দাবাড়ুরা হাতের কাছে কোচের পরামর্শ পাবেন। ফাহাদ বলেন, ‘অন্তত বছরে তিন বার যদি কোচ যাওয়া আসা করেন তাহলেও অনেকটা উন্নতি হবে।’
বিশ্বকাপ দাবার বাছাইয়ে জোনাল দাবায় মেয়েদের গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন জান্নাতুল ফেরদৌসের কণ্ঠেও বিদেশি কোচের আকুতি। তিনি বলেন, ‘বিদেশি কোচ হলে ভালো হয়।’
ফাহাদ এবার ভালো করেছেন। তার কারণ হিসাবে জানালেন তিনি ইউরোপে খেলে এসেছেন। একদিকে বিদেশি কোচ যেমন ভালো প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন তেমনি খেলোয়াড়দের উন্নয়নে বিদেশি টুর্নামেন্টেও অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশে দাবা টুর্নামেন্ট হচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশের দাবাড়ুরা চাইলেই সেখানে খেলতে পারছেন না। অংশগ্রহণ ফি দিতে হয়। বিমান ভাড়া, হোটেল ভাড়া আর খাওয়া-দাওয়ার বিষয় তো আছেই। অনেকে দেশের দাবাড়ুরা বছরের বেশির ভাগ সময় বিদেশে পড়ে থাকেন। তারা একের পর এক টুর্নামেন্ট খেলেন। যে কারণে সেসব দাবাড়ুরা উন্নতির পথ খুঁজে পান। কিন্তু বাংলাদেশের দাবাড়ুরা সেই সুযোগ পান না।
দাবায় যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন দুই চ্যাম্পিয়ন ফাহাদ রহমান এবং জান্নাতুল ফেরদৌস। শিক্ষাজীবন টানতে গিয়ে দাবায় সময় দেওয়া যায় না। আবার দাবায় সময় দিতে গেলে শিক্ষা জীবনে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। মহানগর কলেজের বাড্ডা শাখায় পড়ছেন ফাহাদ রহমান। বলছিলেন তিনি বাসায় পড়েন। কলেজে যেতে হয় না। শিক্ষকরা তাকে সহযোগিতা করছেন। মাঝেমধ্যে ক্লাসে যান ফাহাদ। ক্লাসের বন্ধু বলতে কেউ নেই। আমি যখন ক্লাসে যাই সবাই আমার দিকে এমন ভাবে তাকায় মনে হয় চিড়িয়াখানার পশু দেখতেছে। আমার সঙ্গে মিশতে ভয় পায়। আমার মধ্যেও জড়তা থাকে। আমি যেচে কথা বলতে পারি না। ক্লাস শেষে বেরিয়ে গেলে মনে হয় বেঁচে গেলাম।’