শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ

কারখানায় ভাঙচুর ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭

গাজীপুরের শ্রীপুরে ডার্ড কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা সবাই ওই কারখানার শ্রমিক। সোমবার (১৫ মে) সকালে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। শ্রীপুর থানার ওসি এ এফ এম নাসিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

জানা যায়, শনিবার (১৩ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ধলাদিয়া এলাকার ডার্ড কম্পোজিট  ৩ মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে কাপাসিয়া-জয়দেবপুর আঞ্চলিক সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে ৫ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকলে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে ফিরে যায় আন্দোলনরত শ্রমিকরা। পরদিন রোববার সকাল থেকে কর্মবিরতি দিয়ে কারখানার ভেতর শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শ্রমিকরা। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কারখানার মালিক এসে শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনায় বসে। আলোচনা চলাকালে একপর্যায়ে বাইরে কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষ রূপ নেয়। এ সময় পুলিশ  শ্রমিকদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। শ্রমিকরাও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও পুলিশের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়।

শ্রীপুর থানার ওসি এ এফ এম নাসিম বলেন, কারখানায় ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাঁধা ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে সোমবার সকালে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

গাজীপুরের এএসপি (কালিয়াকৈর সার্কেল) আজমির হোসেন বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়িতে আগুনের ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। কারখানার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশপাশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।