পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ অসিম মুনির হুমকি দিয়েছেন, সম্প্রতি সেনাবাহিনীর স্থাপনায় যারা হামলা চালিয়েছেন, তাদের বিচার সেনা আইনে হবে। সোমবার কর্পস কমান্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে এ হুমকি দেন তিনি। সেনাপ্রধানের এমন হুমকিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইমরান খানের ভেতরে ভেতরে যে বিরোধ চলছিল তা প্রকাশ্যে চলে এলো।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর আইএসপিআর সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, সম্প্রতি সেনাবাহিনীর স্থাপনায় হামলাকারীদের বিচার হবে পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্ট এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং পাকিস্তানের সাধারণ আইনের অধীনে। রাওয়ালপিন্ডির সেনা সদর দপ্তরে স্পেশাল কর্পস কমান্ডারস কনফারেন্সে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন। বিবৃতিতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে সেনা স্থাপনা এবং সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। আইএসপিআর জানিয়েছে, হামলার পেছনে কারা উসকানি দিয়েছে, কারা পরিকল্পনা করেছে এবং কারা বাস্তবায়ন করেছে তার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হামলাকারীদের বিচারের মাধ্যমেই ঘৃণ্য এই হামলা বন্ধ করা হবে।
বিবৃতিতে হুমকির সুরে বলা হয়েছে, ‘কর্পস কমান্ডার ফোরাম সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সামরিক অবকাঠামোতে যে কোনো কারণে কোনো হামলা হলে হামলাকারী, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনো সংযম প্রদর্শন করা হবে না।’ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আরো জানিয়েছে, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সব সময় ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু একটি শক্তি সাধারণ মানুষ এবং সেনাবাহিনীর মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে। এসব প্রচেষ্টা কঠোরতার সঙ্গে দমন করা হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সেনাবাহিনী প্রত্যাশা করে সব রাজনৈতিক দল পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ঐকমত্যে পৌঁছাবে।’
- সেনা আইনে বিচার সম্ভব?
সেনাবাহিনীর বিবৃতির পর এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সেনা আইনে বেসামরিক নাগরিকদের বিচার সম্ভব কি না তা নিয়েই চলছে আলোচনা। দেশটির প্রভাবশালী মিডিয়া ডন এ নিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১৫ সালে আর্মি পাবলিক স্কুলে সন্ত্রাসী হামলায় শিশুসহ ১৪৪ জন নিহত হয়েছিল। ঐ হামলার পর পাকিস্তান পার্লামেন্ট পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্ট-১৯৫২ (পিএএ)-এর অধীনে হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের বিচার করার অনুমতি দেয়। তবে সেটা ছিল দুই বছরের জন্য। এজন্য সংবিধানও সংশোধন করা হয়। এই আইনে সেনা কর্মকর্তা এবং সেনা স্থাপনায়ও হামলার বিচার সেনা আইনে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে এই আইনের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এরপর আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন সেনা আইনে বিচার করতে আবার সংবিধান সংশোধন করতে হবে। যদিও সেটা সরকারের জন্য কঠিন। তবে সরকার হয়তো সেনা আইনের নানা ব্যাখ্যায় যাবে। ইতিমধ্যে পাঞ্জাবের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেনা আইনে বিচার করার অনুমতি দিয়েছে।
- পার্লামেন্টকে বিদ্রুপ করলে ছয় মাসের জেল
পাকিস্তান পার্লামেন্টে গতকাল মঙ্গলবার নতুন একটি বিল পাশ হয়েছে। বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ছেড়ে আসা আইনপ্রণেতা রানা মুহাম্মদ কাসিম। বিলটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কেউ পার্লামেন্টকে নিয়ে বিদ্রুপ বা অবমাননা করলে ছয় মাসের জেল এবং সঙ্গে ১০ লাখ রুপি জরিমানা করা হবে।—ডন