ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। প্রতি কেজি চিনির দাম পড়বে ৮২ টাকা ৮৫ পয়সা। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সেনচুয়াল টেকনোলজি ইনকরপোরেশন (স্থানীয় এজেন্ট ওএমজি লিমিটেড) থেকে এই চিনি সংগ্রহ করা হবে। গতকাল বুধবার ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ-সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের জানান, সভায় চিনি ক্রয়সহ মোট ৯টি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা দেওয়া দেশ থেকে কিছু কেনা হবে না, বিষয়টি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে কি না সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে সাঈদ মাহবুব খান বলেন, না, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
সভায় অনুমোদিত অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের জন্য ১০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড ইউএই হতে ৬০ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্য এক প্রস্তাবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশের কাছ থেকে ১৭তম লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১২০ কোটি ৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পৃথক প্রস্তাবে বিসিআইসি কর্তৃক সৌদি আরব থেকে ২২তম লটে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১০৬ কোটি ২৫ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় সৌদি আরব হতে ৩য় লটে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার এবং মরক্কো হতে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার ও ৪০ হাজার টন ডিএপি সার এবং কানাডা হতে ৫০ হাজার টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি) সার ক্রয়ের পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।