সাভারের আশুলিয়ায় অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে বন্ধুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের ৪ বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (১৮ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে আশুলিয়ার মোজারমিল ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারাবি আহমেদ হৃদয় (২২) আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রবাসী ফজলুল হক মিয়ার ছেলে। সে জাহাঙ্গীরনগর কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।
গ্রেপ্তাররা হলেন মানিকগঞ্জের পশ্চিম দাসপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেনের ছেলে ময়েজ হোসেন পরান (২২) , বগুড়া জেলার সোনাতলা থানার মহেশপাড়া গ্রামের তাহেরুল ইসলামের ছেলে সুমন মিয়া (২৩)। অপর আসামি আকাশের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।
র্যাব জানায়, ঘটনার মূলহোতা পরান এবং নিহত হৃদয় একই এলাকার বাসিন্দা। তারা উভয়ে পূর্বপরিচিত হওয়ায় তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। হৃদয়ের বাবা স্থানীয় প্রভাবশালী ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তি। পরান ও তার সহযোগী সুমন মিয়া, আকাশ এবং পলাতক শাহীন আর্থিক সংকটে ছিল। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে হৃদয়কে অপহরণ করে তার পরিবার থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করছিল।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ মে বিকালে আসামিরা হৃদয়কে আড্ডা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে আকাশের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে হৃদয়কে জোরপূর্বক রশি দিয়ে বেঁধে তার মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে হৃদয়কে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে সন্ধ্যার পর হৃদয়ের লাশ বস্তাবন্দী করে মোজারমিল এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেয়। ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে এলাকা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। ছেলের নিখোঁজের ঘটনা জানার পর প্রবাস থেকে দেশে আসেন হৃদয়ের বাবা ফজলুল হক। পরে ১১ মে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
র্যাব-৪ এর সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুর রহমান বলেন, কলেজ ছাত্র অপহরণ এবং মুক্তিপণ দাবির ঘটনাটি পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপহৃত আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে নিহত হৃদয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।