মামলার সাক্ষীই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বহুল আলোচিত চাঞ্চল্যকর রতন হত্যা মামলার সাক্ষীই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি ফরিদুল ইসলাম ও আসাদুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যায় নিজেদের সম্পৃক্তসহ মামলার সাক্ষী মূল হোতা বলে জবানবন্দি প্রদান করেছে।

ঘোড়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার কিশোরগাড়ি ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের আফজাল হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী সামছুল হকের ছেলে আসাদুল হক (৩৫) ও ফরিদুল হকের বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনার জের ধরে আফজাল হোসেনের ছেলে রতন (২০) গত ২৮ মার্চ পটল ক্ষেত পরিচর্যা করতে গিয়ে নিখোঁজ হন।

নিখোঁজের এক দিন পর রতনের লাশ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার একটি ভুট্টা ক্ষেতের আইল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে নিহতের মা বাদী হয়ে শহিদুল ইসলাম (৪০), শহিদুল ইসলামের ছেলে এনামুল হক (২৫) ও মৃত সামছুল হকের ছেলে আসাদুল হকসহ (৩৫) তিনজন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 

আরো পড়ুন: মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল আপিল বিভাগে

এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম গত ১১ জুন ফরিদুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এ মামলার বাকী আসামিরা গত ১২ জুন জামিনের জন্য আদালতে হাজির হলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলা হাজতে প্রেরণ করেন। 

এরপর আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। এতে শহিদুল ইসলাম, এনামুল হক ও মামলার ৩ নং সাক্ষী মিলন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। 

এরপর ২১ জুন গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার সুলতানপুর গ্রাম থেকে মিলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। থানায় দেওয়া জবানবন্দিতে মিলন জানান, রতনের চোখে ঘুষি মারে শহিদুল, আর এনামুল গলা টিপে ধরে এবং মামলার সাক্ষী মিলন জমি নিড়ানি পাসুন দিয়ে তার গলাকাটে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ