তৌহিদ আজিজ
জর্জিয়ায় রুশ বিরোধী বিক্ষোভ ফের চাঙা হচ্ছে। তাদের এই বিক্ষোভের মূল কারণ সেখানে রুশ সৈন্যদের উপস্থিতি। প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা দখল করে আছে রুশ সৈন্যরা। জর্জিয়াবাসীদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত বৃহস্পতিবার। দেশটির পার্লামেন্টে এক রুশ এমপির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এর পরপরই হাজার হাজার লোক রাজপথে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নামে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দমাতে বেপরোয়া হামলা চালায়। এতে করে রাবার বুলেটে দুই বিক্ষোভকারী তাদের দৃষ্টিশক্তি হারায়।
পুলিশের এ বর্বর হামলায় আন্দোলন মারাত্মক আকার ধারণ করে। তারা ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সড়কে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। বিক্ষোভ ক্রমেই বেগবান হতে থাকে। চোখে লাল কাপড় বেঁধে তারা বিক্ষোভে শামিল হয়। এই লাল কাপড় বাঁধার পিছনের কারণ হচ্ছে পুলিশের রাবার বুলেটে তাদের দুই কর্মীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টি। বিক্ষোভকালে তারা জর্জিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকারের পদত্যাগ দাবি করেন। শুধু তাই নয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গিউরড়ি গাখারিয়ারও পদত্যাগ দাবি করা হয়। সেইসঙ্গে নতুন নির্বাচন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অপসারণ দাবি করেন তারা। ৩২ বছর বয়স্ক এক বিক্ষোভকারী বলেন, আমরা এ সরকারকে হটাতে যা যা করার দরকার তা-ই করবো। কারণ এ সরকার এখন আর আমাদের নেই। তারা রাশিয়ার স্বার্থ হাসিল করছে। নিজ ঘরে শত্রুদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। কাজেই এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আরেকজন বিক্ষোভকারী জানান, ক্ষমতাসীন দলের নেতা ইভানিশভিলি ও তার দলবল দেশ ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। কেননা সমস্ত ঘটনার জন্য স্পিকার দায়ী। তিনিই রাশিয়ার প্রতিনিধি দল ও এমপি সার্গেই গ্যাবরিলভকে এদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তার কারণেই ঐ এমপি পার্লামেন্টে আপত্তিকর বক্তব্য রেখে এদেশকে অপমান করেছেন। উত্তেজিত লোকজন এসময় জানায় যে, কর্তৃপক্ষ কী করে এ কাজটি করলো, যাদের সঙ্গে আমাদের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই।
জর্জিয়ার রুশবিরোধী এই অসন্তোষ সেই ২০০৮ সাল থেকে। সে সময়ে রাশিয়া জর্জিয়ার আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়া দখল করে নেয়। প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা এখনও রাশিয়ার সৈন্যদের দখলে রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জর্জিয়াকে ঐ অঞ্চল দুটিকে হারাতে হয়। আর এরপর থেকেই জর্জিয়া-রাশিয়া বিরোধ চরমে আছে। এদিকে এ বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক ডিক্রিতে রাশিয়ার সব এয়ারলাইনস জর্জিয়ায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। জুলাইয়ের ৮ তারিখ তা কার্যকর হবে। এতে আরো বলা হয়েছে যে, রাশিয়া থেকে জর্জিয়ায় পর্যটকদের ভ্রমণও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।