এখন সবাই নৌকায় উঠতে চায়, সবাইকে নৌকায় নেওয়ার দরকার নেই: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'সবাই এখন আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠতে চায়। সবাইকে নৌকায় নেওয়ার দরকার নেই।' রবিবার (২৩ জুন) বিকালে চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, 'নৌকায় যাত্রী বেশি হলে সে নৌকা ডুবে যায়। কাজেই আমরা নৌকায় বেশি যাত্রী আর নিবো না। আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানীদের চিহ্নিত করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে যতদিন ক্ষমতায় দেখতে চায়, জনগণ যতদিন সমর্থন জোগাবে ততদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে। জনগণের ভালোবাসা নিয়েই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে চায়।'

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্ধত আচরণ পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'আওয়ামী লীগের কোনও নেতাকর্মী কিংবা অনুপ্রবেশকারীদের আচরণে যাতে সাধারণ জনগণ যেন কষ্ট না পায় সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। নেতাকর্মীদের আরও বেশি বিনয়ী ও গণমুখী হতে হবে।'

তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ মানে সংগ্রামের নাম, আওয়ামী লীগ মানে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার নাম, আওয়ামী লীগ মানে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের নাম। কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন যখন আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছিল তখন রাজনীতি ছিল ড্রয়িং রুম ভিত্তিক। তখন পেঠি বুর্জুয়া ও বণিক শ্রেণীর ভূ-স্বামীরাই রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন। সেই রাজনীতিকে গণমানুষের কাতারে নিয়ে এসেছিল আওয়ামী লীগ। ৭০ বছর আগে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর, এ দল গণমানুষের একটি প্রিয় দলে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস জানা মানে বাংলাদেশের ইতিহাস জানা। নতুন প্রজন্মকে বলবো আওয়ামী লীগের ইতিহাস পড়ার জন্য, বিশ্লেষণ করার জন্য।' 

আরও পড়ুন:  ই-কমার্সে ভ্যাট অব্যাহতির দাবি অনলাইন ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে এ দেশ অনেক আগেই সিঙ্গাপুরের মতো উন্নত দেশে পরিণত হতো। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধীরা তা চায়নি। তাই তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। তারা মনে করেছিল বঙ্গবন্ধু না থাকলে দেশ থেমে যাবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তা হতে দেননি। তিনি বাংলাদেশকে অনুন্নত থেকে স্বল্পোন্নত দেশে নিয়ে গেছেন।'

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন প্রমুখ।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি