গণপরিবহনে ভাড়া নির্ধারণে সরকারি প্রজ্ঞাপন মানছেন না বাস মালিকরা। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর রাজধানীসহ চট্টগ্রাম মহানগরীতে গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এর পরের দিন ৮ নভেম্বর থেকে কার্যকর করার কথা থাকলেও গণপরিবহন মালিকরা তা মানছেন না। কোনো কোনো বাসের কনডাক্টর শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া নিতে চায় না। এ নিয়ে প্রতিদিন বাসযাত্রী, কনডাক্টর ও হেলাপরদের সঙ্গে বাগিবতণ্ডা হচ্ছে। এমনকি তা কখনো কখনো হাতাহাতির মতো ঘটনাও ঘটছে। আবার কোনো যাত্রী বেশি ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদ করলে তাকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিভিন্ন রুটের বাসে ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা করা হয়। মিনিবাসের ক্ষেত্রে ১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫ পয়সা। বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ৭ টাকার জায়গায় ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৫ টাকার জায়গায় ৮ টাকা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যা ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কিন্তু আঠারো মাসেও সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করছে না বাস মালিক ও শ্রমিকরা।
এদিকে বিআরটিএর একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে বাসের সর্বনিম্ন ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয় ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা। আবার ৮ টাকার ভাড়া ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা। কোনো গণপরিবহনেও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হয় না। রাজধানীতে রাইদা, তুরাগ, ভিক্টর পরিবহন, ৮ নম্বর, মক্কা-মদিনাসহ বিভিন্ন গণপরিবহণে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট কোনো যাত্রী দেখতে চাইলে, তা দেখাতে পারে না এ সকল গণপরিবহনের শ্রমিকরা। এ বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তার পিএ মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শীতাংশ শেখর বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে যান।
বিআরটিএর পরিচালক (প্রশাসন) মো. আজিজুল ইসলামও একই পন্থা অবলম্বন করেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী থেকে গাবতলী পর্যন্ত সড়ক পথের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটারের একটু বেশি। প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ১৫ পয়সা হিসাবে এই পথের বাস ভাড়া হয় ৩৬ টাকা। কিন্তু মৌমিতা নামের একটি পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেয় ৫০ টাকা। এদিকে এই বাসটি কাঁচপুর থেকে সাভার রুটে চলাচল করে। সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা হলেও এই পরিবহনে নেওয়া হয় ২০ টাকা। কেউ ১ কিলোমিটারের কম পথ অতিক্রম করলেই তার কাছ থেকেও ২০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন। যাত্রাবাড়ী-গাবতলী রুটে চলাচলকারী ২১ নাম্বার বাস (সাবেক ৮ নম্বর) বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থেকে ফার্মগেট ভাড়া নেয় ২০ টাকা। তবে যাত্রাবাড়ী-মিরপুর রুটে চলাচলকারী শিকড় পরিবহন নেয় ৩০ টাকা। একইভাবে যাত্রাবাড়ী থেকে মতিঝিল, পুরানা পল্টন, গুলিস্তানের ভাড়া সাধারণত ৮ টাকা। কিন্তু ট্রান্স সিলভা পরিবহন নেয় ১০ টাকা, শিকড় পরিবহন নেয় ১০ টাকা, গ্রামীণ বাংলা পরিবহন নেয় ২০ টাকা।
রাজধানীর মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া যাত্রীপ্রতি ১৩ টাকা। মিরপুর ও সাভার থেকে আসা বাসগুলো টেকনিক্যাল মোড় থেকে যাত্রী তোলে। দিশারি, বাহন, ট্রান্স সিলভা, সাভার ও মৌমিতা পরিবহনে এই দূরত্বের ভাড়া নেওয়া হয় ২০ টাকা। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি আদায় করা হয় ঐ সব বাসে।