এত বছরের পুরোনো সম্পর্ক এভাবে বিচ্ছিন্ন করবেন ছোটন তা বুঝতে পারেনি বাফুফে। কোথায় ভুল, কোথায় ন্যায় আর অন্যায় হয়েছে তা সরাসরি না বলে একদিন ঘুম থেকে উঠে মেয়েদের ফুটবল কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন জানিয়ে দিলেন তিনি আর দলের সঙ্গে নেই। দায়িত্ব পালন করবেন না। বলেই মাঠেও আর আসলেন না। মেয়েদেরকে অনুশীলন করাতে আসেননি। গতকালও অনুশীলন মাঠে যাননি তিনি। ছোটনের বদলে সহকারী মাহবুবুর রহমান লিটু সাবিনাদেরকে অনুশীলন করিয়েছেন। ছোটন মেয়েদের জাতীয় দলের সঙ্গে আর কাজ করবেন না সেটি আনুষ্ঠানিকভাবেও ঘোষণা দেননি। বাফুফেতে পত্র দিয়ে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি।
গতকাল বাফুফের মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ কথা বলেছেন ছোটনের সঙ্গে। ছোটনের স্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন। ছোটন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কাজ করবেন না। আর কিরণ তাকে জানিয়েছেন, যে মেয়েগুলোকে গড়ে তোলার কাজে নিয়োজিত ছিলেন তাদেরকে রেখে কেন চলে যাবেন। সমস্যা থাকলে কথা বলে নিলেই হয়।’ কিরনকেও একই কথা জানিয়েছেন ছোটন, তিনি ক্লান্ত। এখন বিশ্রাম নিতে চান।
কিরণ বলেছেন, ‘দরকার হয় ছুটি নিয়ে এখন বিশ্রামে থাকতে পারেন ছোটন। আমাদেরকে জানালে আমরা সেভাবে অনুশীলনের প্রোগ্রামটা সাজিয়ে নিতাম।’ ছোটনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে কিরনের। কিরণ তখন বাফুফে ভবনে। বিকালে ফুটবল ভবনে আসেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। ছোটন প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলতে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমি শুনতেছি। ছোটন যদি না থাকতে চায় তাহলে সেটি জানাতে পারে।’ সালাহউদ্দিন বললেন, ‘ছোটন আমার সঙ্গে কথা বলেনি। আমি আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনো কিছু পাইনি। পেলে বলতে পারব।’ কিরনের বিশ্বাস ছোটন তার অবস্থান থেকে সরে আসবেন।
গত ২৬ মে শুক্রবার, ছোটন জানিয়েছেন, তিনি জাতীয় দলে কোচের দায়িত্ব পালন করবেন না। চাকরি ছেড়ে দেবেন। এক বছর মেয়াদের চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৩। সাত মাস আগেই ছোটন দায়িত্ব ছাড়ছেন। ছয় দিন আগে জানিয়ে দিলেন ছোটন আর কাজ করবেন না। এসব কিছু বাফুফে সংবাদমাধ্যমে জানতে পেরেছে। গত শুক্রবার ছোটনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল চাকরি ছাড়ার বিষয়টা তিনি বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনকে জানিয়েছিলেন কি না। ছোটনের জবাব ছিল, তিনি জানাননি। বাফুফের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারকে জানিয়েছেন। আর তুষার জানিয়েছেন তিনি ফোনে জেনেছেন। কথা বলবেন। কিন্তু গতকাল ছোটন বাফুফে ভবনে আসেননি।
প্রায় চৌদ্দ বছর মেয়েদের ফুটবল দলের সঙ্গে কাজ করছেন ছোটন। এর মধ্যে নানা প্রয়োজনে বাফুফের সঙ্গে কথা বলেছেন। কোনো সমস্যা থাকলে সেটি সমাধান করতে বাফুফের শীর্ষ মহলের সঙ্গে বসেছেন। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক এক নিমিষেই শেষ করে দিলেন ছোটন। বাফুফের সভাপতি বিভিন্ন মাধ্যমে জানলেন, ছোটন সাবিনাদের নিয়ে কাজ করবেন না। বাফুফে মনে করছে, এই কথাটি সরাসরি জানানো উচিত ছিল। কাজ করতে চান না, কাজ করবেন না কিংবা চাকরি ছেড়ে দিতে চান। এসব কথা বাফুফের নীতিনির্ধারকদের জানালে এবং তারা সমাধান করতে না পারলে তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন ছোটন। একজন মানুষ চাকরি করবেন না সেটি ছয় দিন আগে কীভাবে জানায়।
ফুটবলে গুঞ্জন, ছোটন একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সেখানে কথা হয়েছে। ছোটন এখন সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন। বাফুফেতে কাজ করতে গিয়ে কারো সঙ্গে জটিলতা সৃষ্টির কথা প্রকাশ করলেও সেটি নিরসনের কথা বলেননি ছোটন। পল স্মলির সঙ্গে সমস্যা থাকতে পারে বলে আশঙ্কা বাফুফের। এক পক্ষ সমাধানে আগ্রহী হলেও অন্যপক্ষের আগ্রহ নেই। কারণ অনাগ্রহীদের চোখে ছোটনের ভুল, যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবেন সেই প্রতিষ্ঠানকে আগে জানাবেন। তা না করে ভিন্ন পথে হেঁটেছেন ছোটন। বাফুফে বলছে, ছুটি নেননি, অনুশীলনে আসেনি ছোটন। দায়িত্ববান লোকের কাছে এমন অপেশাদার আচরণ কাম্য নয়।