একনামে একাধিক গাড়ি থাকলে দিতে হবে পরিবেশ কর

প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত গাড়িতে আরোপ হচ্ছে পরিবেশ কর। এক নামে একাধিক গাড়ি থাকলে দিতে হবে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা কর। বৈদ্যুতিক গাড়িও আসছে এর আওতায়। ব্যক্তি ও কম্পানি দুই সত্তাকেই দিতে হবে এই কর। তবে গাড়ি আমদানিতে কর কাঠামোর কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে চান অর্থমন্ত্রী। এজন্য পরিবেশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব আগামী অর্থবছরের বাজেটে। একনামে একাধিক গাড়ি থাকলে দিতে হবে এই কর।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব, ১৫০০ সিসি বা ৭৫ কিলোওয়াট ইঞ্জিন ক্ষমতা পর্যন্ত গাড়ির পরিবেশ কর হবে ২৫ হাজার টাকা। দুই হাজার সিসি বা একশ কিলোওয়াট পর্যন্ত গাড়িতে কর হবে ৫০ হাজার টাকা। আড়াই হাজার সিসি বা ১২৫ কিলোওয়াট মোটর গাড়িতে দিতে হবে ৭৫ হাজার টাকা।

৩ হাজার সিসি বা ১৫০ কিলোওয়াট মোটরের ক্ষেত্রে কর ১৫০ লাখ টাকা। সাড়ে ৩ হাজার সিসি বা ১৭৫ কিলোওয়াটের মোটর গাড়িতে পরিবেশ কর হবে ২ লাখ টাকা। এবং এর চেয়ে বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার গাড়িতে কর হবে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব, পরিবেশ সারচার্জ আরোপ হবে বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার গাড়ির ওপর। গাড়ির নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের সময় উৎসে কর হিসেবে যা আদায় করা হবে। একাধিক বছরের জন্য গাড়ির নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করা হলে কর দিতে হবে পরবর্তী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে এবং ওই সময় নির্ধারিত হারে।

বিআরটিএ-র হিসাবে, গত তিন বছরে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। আর জিপ ও এসইউভি গাড়ির বাজার দ্বিগুণ হয়েছে।

তবে গাড়ি আমদানিতে নতুন করে কোনো বিধিনিষেধ বা কর ছাড়ের প্রস্তাব নেই। চলতি অর্থবছরের নির্ধারিত হার আগামী অর্থবছরেও বহাল রাখা হবে। যদিও গাড়ি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা, পরিবেশ রক্ষায় হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে কর কমানোর দাবি জানিয়েছিলেন।

আজ দুপুর ৩টায় জাতীয় সংসদে অধিবেশন শুরুর পর ‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করছেন। এটি দেশের ৫২তম, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৪তম ও আ হ ম মুস্তফা কামালের পঞ্চম বাজেট।