পিএসজির হয়ে শেষটা ভালো হলো না লিওনেল মেসির। বরং গত পরশু রাতে পিএসজির জার্সি গায়ে শেষ ম্যাচটিতেও নিজ দলের সমর্থকদের দুয়ো হজম করতে হয়েছে তাকে। ঐ তিক্ততার পাশাপাশি শেষ ম্যাচটাতে মেসির ভাগ্যে জুটেছে দৃষ্টিকটু সুযোগ মিস আর দলের হারের হতাশা। পরশু মেসির শেষ ম্যাচে পিএসজি নিজেদের ঘরের মাঠে ২-৩ গোলে হেরে গেছে ক্লেরমন্তের কাছে। পিএসজির হারটাও আবার নিজেদের ঘরের মাঠে, ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর! আগেই লিগ শিরোপা নিশ্চিত করা পিএসজিকে মৌসুম শেষ করতে হলো হারের হতাশা দিয়ে।
মেসির পাশাপাশি বর্ষীয়ান স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সার্জিও রামোসেরও ছিল পিএসজির জার্সি গায়ে শেষ ম্যাচ। স্পেনের লা লিগা ছেড়ে দুজনে প্রায় একই সঙ্গে পিএসজিতে যোগ দিয়েছিলেন। রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে রামোস পিএসজিতে নাম লেখান ২০২১ সালের ৮ জুলাই। বার্সেলোনা ছেড়ে মেসি পিএসজির সঙ্গে চুক্তিটা করেন ২০২১ সালের ১০ আগস্ট। দুজনেই চুক্তিটা করেছিলেন দুই বছর মেয়াদি। চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় দুজনকেই তাই বিদায় নিতে হলো একই সঙ্গে, একই ম্যাচের মাধ্যমে।
তবে দুজনের বিদায়ি মুহূর্তের স্মৃতিতে বড় একটা পার্থক্য আঁকা হয়ে গেছে। দল হারলেও রামোস শেষ ম্যাচটিতে একটি গোল করেছেন। হেড করে পিএসজিকে প্রথম এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনিই। বিপরীতে মেসিকে পুরতে হয়েছে দৃষ্টিকটু এক সুযোগ মিসের হতাশায়। তার সামনে সুযোগ এসেছিল গোল করে দলকে জিতিয়ে বিদায়টা রাঙিয়ে তোলার। কিন্তু মেসি ক্লেরমন্তের গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে পারেনি। তার আনাড়িমার্কা শট চলে যায় গোলপোস্টের ওপর দিয়ে।
মেসি-রামোসের বিদায়ি ম্যাচটি পিএসজি খেলতে নেমেছিল দলের অসুস্থ গোলরক্ষক সার্জিও রিকোর সুস্থতা কামনায়। ঘোড়ায় চরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রিকো। পিএসজি তাই তার সুস্থতা কামনায় ম্যাচটা খেলতে পেছনে ‘রিকো’ লেখা বিশেষ জার্সি পরে। এই উপলক্ষ্যটাও মেসি-এমবাপ্পেরা অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করতে পারেননি। এমবাপ্পে অবশ্য একটা গোল করেছেন। তবে পেনাল্টি থেকে করা তার সেই গোলও দলকে জেতাতে পারেনি। পিএসজি কোচ ক্রিস্টোফ গালতিয়ের ম্যাচের দুই দিন আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, শনিবার ক্লেরমন্তের বিপক্ষে ম্যাচটিই হবে পিএসজির হয়ে মেসির শেষ। তবে ক্লাবের এক সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে ‘শেষ ম্যাচ নয়’ বলেও খবর ছড়ায়। সেই সংশয়টুকু মুছে যায় পরশু ম্যাচ শুরুর আগেই। কারণ, ম্যাচ শুরুর আগেই পিএসজির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেসি-রামোসের শেষ ম্যাচ বলে ঘোষণা করা হয়। পরে মেসিও পিএসজি-অধ্যায় শেষ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। মেসি-রামোসের বিদায়ি ম্যাচের ১৬ মিনিটেই পিএসজিকে এগিয়ে দেন রামোস। ২১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমবাপ্পে। এরপরই সফরকারী ক্লেরমন্তের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। ২৪ মিনিটে ক্লেরমন্তের হয়ে প্রথম গোলটি করেন গাস্তিয়েন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দলকে সমতায় ফেরান জেফানে। এরপর ৫৪ মিনিটে এমবাপ্পের পাস থেকে মেসির ঐ অবিশ্বাস্য মিসের ঘটনা। সেই ফায়দা তুলে ৬৩ মিনিটে ক্লেরমন্তেকে ৩-২তে এগিয়ে দেন কেয়ি। হারলেও ম্যাচ শেষে লিগ শিরোপা জয়ের উদ্যাপন করেছেন পিএসজির খেলোয়াড়েরা। পিএসজি ছেড়ে মেসি-রামোস কোথায় যাচ্ছে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
মেসির পিএসজি ক্যারিয়ার
- মোট ম্যাচ ৭৫
- মোট গোল ৩২টি
- গোলে অ্যাসিস্ট ৩৫
- শিরোপা জয় ৩টি
(দুটি লিগ, একটি ফরাসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি যা মূলত সুপার কাপ)