সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকের অসংখ্য কন্টেন্ট এর মধ্যে হাজার রকম টপিক নিয়ে রয়েছে অগণিত কন্টেন্ট। তবে তার মধ্যে দৈনন্দিন জীবন নিয়ে ভাবেন ক’জন? এমনি এক ব্যতিক্রমী কন্টেন্ট তৈরি করেন ‘পুচির মা’ নামক পেইজ নির্মাতা তাপসী দাস। দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা হাস্যরসাত্মকভাবে ফুটিয়ে তোলেন তিনি। কন্টেন্টের মধ্যে থাকে পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক জীবনের গল্পও। ফুটিয়ে তোলেন মধ্যবিত্ত মানুষের প্রতিদিনকার দিনযাপনের বাস্তব চিত্রও।
ভ্লগ তৈরির ক্ষেত্রে তিনি আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেন। বাংলাদেশের মানুষ তার কণ্ঠেই প্রথম শুনে দ্রুতভাবে হাস্যরসাত্মক কথা বলা যা শ্রোতাদের তাৎক্ষণিকভাবে মুগ্ধ করে। তার কন্টেন্টগুলো পায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা। কন্টেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে তিনি সর্বদা মাথায় রাখেন কন্টেন্ট এর কোয়ালিটি বা বিশেষত্ব বজায় রাখার। কোন ধরনের স্ক্রিপ্ট ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অনেক দ্রুতভাবে কণ্ঠ দেন তিনি ভিডিওগুলোতে।
তাপসী দাস এমনভাবে তার ভ্লগ তৈরি করেন যা একটা পরিবারের সবাই মিলে দেখতে পারে এবং সবাই আনন্দ পায়। এজন্য সব শ্রেণির মানুষের মাঝে তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। নির্দিষ্ট কোনো অডিয়েন্স জন্য তার কন্টেন্ট গুলো না, যারাই বিনোদন এবং হাস্যরসাত্মক পছন্দ করেন তারা সবাই তাকে অনুসরণ করেন।
কন্টেন্ট তৈরির পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে তার পরিবার। তার পরিবারের মানুষগুলো তাকে সবসময় সহযোগিতা করে। নিজের সংসার সামলে তিনি কন্টেন্ট তৈরি করার পেছনে সময় দেন। কন্টেন্টগুলো তাপসী নিজেই এডিট করেন। মূলত একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে ঘটে যাওয়া নানা বাস্তব কাহিনী নিয়েই কন্টেন্ট গুলো উপস্থাপনের চেষ্টা করেন তিনি। এর আগেও ‘পুচি ফ্যামিলি’ এবং ‘গলু’স রিভিউ’ পেইজ থেকেও পেয়েছেন দারুণ জনপ্রিয়তা। তার এই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই তাকে অনুসরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করা শুরু করেছেন।
একটি কন্টেন্ট প্রকাশের পর অনেক ক্ষেত্রে বাজে বা কটু মন্তব্য এবং সমালোচনার মুখোমুখি হলেও তিনি সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই নেন। তিনি এসব বাজে কমেন্ট এবং সমালোচনাকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে আরও ভালোভাবে মেলে ধরার প্রস্তুতি নেন প্রতিদিন। প্রথম প্রথম মেনে নিতে খারাপ লাগলেও, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করে যাচ্ছেন নিয়মিতভাবে। উদ্দেশ্য শুধু বাস্তবতার নিরিখে পারিবারিক জীবন কাহিনীগুলো সাধারণ মানুষের সামনে ভিন্ন উপায়ে উপস্থাপন করা এবং মানুষকে বিনোদন দেওয়া। শুধু মানুষকে বিনোদন দিয়েই এই কন্টেন্ট নির্মাতা মাস গেলেই আয় করছেন এক থেকে দুই হাজার ইউএস ডলার।
গতানুগতিক কন্টেন্টের ধারাকে পাল্টে নতুন কিছু নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। যেটা আগে কেউ দেখেনি বা করেনি সেটা করে দেখাতে চান। পেইজটাকে তিনি আরও বড় করতে চান, মানুষকে আনন্দ দিয়ে যেতে চান।