পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও স্মার্ট খুলনা গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ৪০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের শহীদ শেখ আবু নাসের ব্যাংকুয়েট হলে এ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
ইশতেহারে হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়ে সেবার মান বৃদ্ধি, কেসিসিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বিশেষ ব্যবস্থা, মাদকমুক্ত নগর গড়া, শিশুদের সাঁতার শেখানোর বিশেষ উদ্যোগ, মহানগরী সম্প্রসারণের উদ্যোগসহ ২০ পৃষ্ঠার এ ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণার আগে গত পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন করা উন্নয়ন প্রকল্পের বর্ণনা দেন সদ্য বিদায়ি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারির কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যথাসময়ে বিশাল এ কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। অনিচ্ছাকৃত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এ বিলম্বের জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে চলমান উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হলে খুলনা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি স্বাস্থ্যকর নগরীতে পরিণত হবে—ইনশাল্লাহ। তিনি আরো বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে আমার চিরকালের শত্রুতা। এ বিষয়ে আমি কোনো আপস করব না। নির্বাচিত হলে সিটি করপোরেশন সব সেবা পর্যায়ক্রমে দুর্নীতিমুক্ত হবে ।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও এস এম কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশিদ, কেসিসি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজী আমিনুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিত কুমার অধিকারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র প্রার্থীদের গণসংযোগ :গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় তালুকদার আব্দুল খালেক যমুনা রোড থেকে শুরু করে নগরীর ৭, ৮, ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি আগামী ১২ জুন নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জয়যুক্ত করার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু সকালে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চেয়ে নগরীর শিববাড়ী মোড়, কেডিএ অ্যাভিনিউ ও বিকালে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে—যাতে তারা ১২ জুন ভোট সেন্টারে না যায়।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল সকাল থেকে নগরীর ২৩, ২৪, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এ সময় তিনি সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত খুলনা মহানগরী গড়তে ভোটারদের প্রতি হাতপাখা প্রতীকে ভোট চান।
জাকের পার্টির মেয়র প্রার্থী এস এম সাব্বির হোসেন গোলাপ ফুল প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন। দুপুরে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নগরীর একটি হোটেলে মতবিনিময় করেন। এছাড়া স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক নগরীর বিভিন্ন স্থানে টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেছেন।
খুলনায় পৌঁছেছে ইভিএম :খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) হবে। এজন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক ইভিএম ইতিমধ্যে খুলনায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার মো. আলাউদ্দীন। তিনি আরো জানান, বর্তমানে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা ঘটেনি। প্রার্থীদের প্রচারণা কার্যক্রম আগামী ১০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির জুন মাসের সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। গতকাল বিকালে জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীনের সভাপতিত্বে তার সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘ইসি কঠোর হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব’ : জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) যদি কঠোর হয়, তাহলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যমূলক নির্বাচন সম্ভব। তিনি গতকাল বিকালে খুলনা প্রেসক্লাবে নির্বাচন উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। এ সময় জাপার মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু, প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সৈয়দ দিদার বক্স, সুনীল শুভ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।