টিফানি অ্যাডামস নামের এক যাত্রী এয়ার কানাডার একটি বিমানে করে কিউবেক থেকে টরোন্টো যাচ্ছিলেন। কিন্তু মাঝপথে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর ঘুম থেকে উঠে দেখেন বিমানে তিনি শুধু একাই, আশেপাশে আর কেউ নেই। খবর বিবিসির।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিফানি অ্যাডামসের প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় হঠাত ঘুম ভাঙ্গে। ঘুম ভাঙতেই আশেপাশের অবস্থা দেখে ভড়কে যান। ঘুম থেকে উঠে দেখেন চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আশপাশে কেউ নেই!
শুরুতে খুব ঘাবড়ে গেলেও কি ঘটেছে সেটি বুঝতে কিছুক্ষণ সময় লাগে টিফানির। টিফানি বুঝতে পারলেন, বিমান অবতরণের পর বিমানের ক্রু ও বিমানবন্দরের কর্মীরা সকল ধরনের কার্যক্রম শেষ করে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে বিমানের ভেতরে আটকে রেখেই সবকিছু বন্ধ করে চলে গেছেন।
টিফানি জানান, ঘুম থেকে উঠে দেখেন তখনো তার সিটবেল্ট বাধা রয়েছে।
বিমানের যাত্রা শেষ হওয়ার পর বিমান ত্যাগ করার আগে পুরো বিমানের সকল অংশ ভালো করে দেখে তবেই বিমানের কর্মীদের বের হওয়ার কথা।
টিফানি অ্যাডামস বলছেন, বিমানটি টরোন্টো পেয়ারসন বিমানবন্দরে অবতরণের পর কয়েক ঘণ্টা ঘুমন্ত অবস্থায় বিমানে ছিলেন তিনি। বিমানটি রান ওয়েতে পার্ক করা ছিল।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে টিফানি প্রথমে মোবাইল ফোন হাতড়ে বের করে, তার এক বান্ধবীকে এই অবস্থার কথা জানান।
কিন্তু কথা শেষ হতে না হতেই তার ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। তবে এরপর তিনি হাতড়াতে হাতড়াতে পৌঁছালেন ককপিটে। সেখানে একটি টর্চ-লাইট খুঁজে পান, তা জ্বালিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ চেষ্টা করেন।
সেখানে এক ছোট গাড়ির একজন চালক হঠাৎ সেই আলো দেখে ভয়াবহ ভড়কে যান। এদিকে ততক্ষণে টিফানি অ্যাডামসের বান্ধবী ডেনা ডেল বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে সক্ষম হন।
গত ৯ই জুনের এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এয়ার কানাডা জানায়, তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন।
আরও পড়ুন: ‘পাকিস্তানে সামরিক হাসপাতালে ভয়াবহ বিস্ফোরণ’
অ্যাডামস জানান, ওই ঘটনার পর থেকে প্রায়ই রাতে ভয়াবহ দু:স্বপ্ন দেখেন তিনি।
ইত্তেফাক/এসআর