রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ের পাদদেশে আনাচেকানাচে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল দিয়ে প্রবাহিত পাহাড়ি ঝরনা, ছড়া এবং ঝিরিগুলো সমগ্র পার্বত্য জেলার পরিবেশ এবং প্রতিবেশ সুরক্ষায় বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে—বিগত ১০০ বছর আগে তিন পার্বত্য জেলায় ২ লাখ ঝরনা, ছড়া এবং ঝিরির প্রবাহ ছিল। এসব ঝরনা, ছড়া এবং ঝিরি দিয়ে পানির ধারা বহমান থাকত এবং মানুষ, পশু-পাখি ও জীবজন্তু এই পানির ধারা থেকে তৃষ্ণা মেটাত। বিপুল সংখ্যক ঝর্ণা, ছড়া এবং ঝিরি থাকার ফলে শত বছর আগে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে ছিল হরেক রকম গাছপালা ও প্রাণী। কিন্তু এখন এসব ঝরনা, ছড়া এবং ঝিরির সংখ্যা কয়েক হাজারে নেমে এসেছে। আশঙ্কাজনকহারে ঝরনা, ছড়া এবং ঝিরি কমে যাওয়ায় সরকার এগুলোকে রক্ষা করতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পানির উত্সসমূহ চিহ্নিত ও পুনরুজ্জীবিত করণের মাধ্যমে টেকসই পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং সমীক্ষা প্রতিবেদন বিষয়ক অবহিতকরণ সভা গতকাল কাপ্তাই উপজেলার কিন্নরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইসি) এই অবহিতকরণ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাছির উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমন দে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিইজিআইএসর প্রকৌশলী মো. শাকিল আহমেদ। তাকে সহযোগিতা করেন সিইজিআইএসের ফয়সাল আহমেদ। প্রতিবেদনে বলা হয় ঝরনা, ছড়া ও ঝিরি না থাকলে পার্বত্য এলাকায় মানুষ, পশু পাখি এবং জীবজন্তুর বসবাস কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমান যেসব ছড়া অবশিষ্ট আছে সেগুলোর মধ্যে কিছু আছে বারোমাসি এবং অনেকগুলো আছে মৌসুমী ছড়া। বারোমাসী ছড়ায় সবসময় কমবেশি পানির ধারা প্রবাহিত থাকলেও মৌসুমি ছড়ায় বিশেষ বিশেষ সময় পানির দেখা মিলে। পার্বত্য এলাকার সবগুলো ছড়াকে বারোমাসি ছড়ায় পরিণত করতে পার্বত্য এলাকা থেকে নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করা, অধিক হারে বাঁশের ঝোপ রোপণ, ছড়া থেকে পাথর উত্তেলান বন্ধ করা, পাহাড়ি ঝিরির ৪০ ফুট এলাকার মধ্যে কোনো ধরনের চাষাবাদ না করা, পরিকল্পিত বনায়ন করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পর্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্পের কাপ্তাই উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মৃদুল চৌধুরী।