বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) বলেছেন, আমি নগরবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকবো। মঙ্গলবার (১৩ জুন) বরিশাল সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ইত্তেফাককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে আমাকে বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় আমি বরিশালের নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সর্বস্তরের মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছে, সেই ভালোবাসার মর্যাদা যেন রক্ষা করতে পারি সেজন্য মহান আল্লাহপাক আমাকে শক্তি দান করুন।
তিনি আরও বলেন, আমার প্রতিশ্রুতির সবগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবো। কারণ আমার প্রতিশ্রুতির কোনটা থেকে কোনটা বাদ দেওয়ার নয়। তবে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোকে যাচাই-বাছাই করে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবো। আমার ইশতেহার বরিশালবাসীর জন্য, মানুষের উন্নয়নের জন্য। আওয়ামী লীগের মনোনয়নয় নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। দলের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস অবিচল থাকবে। আমি দলের হলেও নগর ভবন থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত। মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর সবার আগে এই বিষয়টি আমি নগরবাসীর কাছে দৃশ্যমান করে তুলব।
আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ এবারই প্রথম মেয়র নির্বাচিত হলেন। তিনি ৫৩ হাজার ৯৮০ ভোটের ব্যবধানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমকে পরাজিত করেছেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমার মামা ও বাবা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াতের ছেলে আমি তাই মামা ও বাবার দেখানো আদর্শ পথেই চলতে চাই। আমি আমার বাবার কাছেই শিখেছি কীভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়। তাই বরিশাল সিটিকে উন্নত, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব, মানবিক এবং নিরাপদ নগরী করার যে অঙ্গীকার (ইশতেহার) তিনি করেছিলেন, নগরবাসীকে নিয়ে সেই কাজ তিনি করতে চান।
প্রথমে কোন কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেবেন-এ প্রশ্নের জবাবে খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, আমার প্রথম কাজ হবে বিগত দিনের মুখ থুবড়ে পড়া বরিশাল নগরীর অনুন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আবার উন্নয়নে সচল করা। এটা বরিশালবাসীর প্রাণের দাবি।
এ ছাড়া অস্তিত্বসংকটে পড়া খালগুলোকে খনন করে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে ব্যবস্থা নেওয়া। বাড়ির প্লান অনুমোদন সহনীয়, হয়রানি ও ভীতিমুক্ত করা ছাড়াও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্লান অনুমোদনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ‘অনাকাঙ্খিত ও অযৌক্তিক’ হোল্ডিং ট্যাক্স পুনঃমূল্যায়ন করার কথা বলেছেন তিনি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষ আমাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। তারা আমাকে বিশ্বাস করেছে। সুতরাং সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন আমার ভোটের সংখ্যা। দলের সবাই আমার সঙ্গে আছেন। নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে সবাই আমার জন্য কাজ করেছেন। দল-মত নির্বিশেষ সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে আমি কাজ করতে চাই। তবে আগামী দিনের রাজনীতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই নবনির্বচিত মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত।
সবশেষে খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী যে আশা আকাঙ্খা নিয়ে আমাকে প্রার্থী বানিয়ে বরিশালবাসীর কাছে পাঠিয়েছিল। বরিশালবাসী ভোটের মাধ্যমে আমাকে বিজয়ী করে নেত্রীর আশা-আকাঙ্খা পূরণ করেছেন।
তিনি বলেন, আমি সমগ্র বাংলাদেশের গণমানুষের আশার প্রদীপ দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। সঙ্গে সঙ্গে এই নগরীর সব ভোটার, জনগণ এবং আমার দলীয় সব কর্মী যারা নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত তাদের প্রতি যেমন কৃতজ্ঞতা জানাই, তেমনি আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সদস্যসহ সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আল্লাহ আমাদের সকলের মঙ্গল করুন। নতুন বরিশাল গড়ার অঙ্গীকার, জয় হোক শেখ হাসিনার।