মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট দ্বৈরথ। নিজেদের ঘরের মাঠে টেস্টটি বাংলাদেশকে খেলতে নামতে হচ্ছে দুঃসংবাদে জর্জরিত হয়ে। চোটের কারণে টেস্টের নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দলেই নেই। গতকাল জুটেছে আরো একটি দুঃসংবাদ। চোটের কারণে আফগানদের বিপক্ষে খেলতে পারছেন না ওপেনার তামিম ইকবালও।
সাকিব-তামিমকে ছাড়া বাংলাদেশ টেস্টটা খেলতে নামতে পারে চার পেসার নিয়ে। মিরপুরের উইকেট দেখে কোচ চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে গতকাল নিজেই জানিয়েছেন এই পরিকল্পনার কথা। বলেছেন, মিরপুরের উইকেটে অনেক ঘাস আছে। তাই চার পেসার খেলানোর পরিকল্পনাই রয়েছে তাদের।
তামিম এখনো দলের সঙ্গেই আছেন। গতকাল দলীয় সভায়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে সেটা শুধুই দলকে সঙ্গ দিতে। আজ মাঠে নামা হচ্ছে না তার। গতকাল অনুশীলনে পর্যবেক্ষণ করার পর তাকে না খেলানোর সিদ্ধান্তই নিয়েছেন কোচ হাথুরুসিংহে ও বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। অভিজ্ঞ তামিম না থাকার অর্থ, টেস্টে জাকির হাসানের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করতে পারেন মাহমুদুল হাসান।
সর্বশেষ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে খেলেছিলেন তামিম। তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তার খেলা নিয়ে আগে থেকেই সংশয় ছিল। কারণ, অনেক দিন ধরেই কোমরের ব্যথায় ভুগছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ওপেনার। তারপরও তাকে ১৫ সদস্যের দলে রাখা হয়েছিল দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠার আশায়। কিন্তু তামিম শতভাগ সুস্থ নন। গতকালের চূড়ান্ত অনুশীলনেও খুব স্বচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করতে পারেননি তামিম। প্রায় ২৫ মিনিটের ব্যাটিং অনুশীলনে বাঁ-হাতি ওপেনার প্রায় সব বলই খেলেছেন সামনের পায়ে ভর করে। ব্যাকফুটে গিয়ে শট বলতে গেলে খেলেনইনি। এমন অবস্থায় তিনি দুই ইনিংসেই ব্যাটিং করা বা পুরো ম্যাচে ফিল্ডিং করতে পারবেন না বলেই সংশয় রয়েছে। তাই কোচ হাথুরুসিংহে কিছুটা আনফিট তামিমকে শেষ পর্যন্ত না খেলানোর সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। তামিম না থাকলেও কোচ হাথুরুসিংহে আত্মবিশ্বাসী তার দল ভালো করবে। শিষ্যদের তিনি এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, এটা টেস্ট। সুতরাং টেস্টের মানসিকতা নিয়েই খেলতে হবে।
পেসার তাসকিনকে নিয়েও একটু সংশয় ছিল। কিন্তু তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি কোচ হাথুরুসিংহে। তবে শেষ পর্যন্ত তাসকিন হয়তো কোচের কাছ থেকে ‘পাশ’ সার্টিফিকেটই পেয়েছেন। এমনিতে স্পিনই বাংলাদেশের বোলিংয়ের মূল শক্তি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পেসাররাও আশার আলো দেখিয়েছেন। তাছাড়া এই টেস্টে নেই সাকিব। তাই স্পিন-বান্ধব পিচের পরিবর্তে ঘাসে-ভরা সবুজ উইকেটে খেলার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ। উইকেটও তৈরি করা হয়েছে সেভাবেই। উইকেট দেখে কোচ হাথুরুসিংহে জানিয়েছেন, আজ তিন-চার জন পেসার নিয়ে নামার পরিকল্পনার কথা, ‘আমাদের দলে সাত-আট জন বোলার আছে। যাদের আমরা যে কোনো সময় সুযোগ দিতে পারি। আমাদের ফাস্ট বোলিং বিভাগ এখন খুবই ভালো। কে জানে, আগামীকাল আমরা হয়তো তিন-চার জন পেসার নিয়েও দল সাজাতে পারি।’
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে নিজেদের এই পরিকল্পনার ব্যাখ্যাও করেছেন বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কান কোচ, ‘দেখুন, আমাদের এখন ফাস্ট বোলার আছে। আর পেসারদের সুবিধা হয়, এমন উইকেটই তাদের দিতে হবে।’ তবে তিনি এটাও জানিয়েছেন, মিরপুরের উইকেট শুধু পেসারদের হয়েই কথা বলবে না, স্পিনারদের জন্যও থাকবে সুখবর, ‘এই উইকেট কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবুজ থাকবে না। গরমে খুব দ্রুতই উইকেটের চরিত্র বদলে যেতে পারে। এখানে আসলে সবারই ভালো করার সুযোগ থাকবে।’ সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারবেন তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজরা?