ফ্যাশন শিল্পকে বাঁচানোর আহবান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন

দেশীয় ডিজাইনারদের মূল্যায়নের দাবি

ফ্যাশন শিল্পকে বাঁচানো আহ্বান জানিয়ে ইয়াং ডিজাইনার ও উদ্যোক্তারা গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর বনানী ১১ নম্বর রোডের জেনেটিক প্লাজার কনফারেন্স কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নারী এন্টারপ্রেনার এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা নাসরিন রব, বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট টুটলি রহমান, কোরাল ক্লজেট-এর সত্বাধিকারী রুপো শামস, ফ্যাশন ব্র্যান্ড জুরহেম-এর সত্বাধিকারী ও ডিজাইনার মেহরুজ মুনীর, ফ্যাশন ডিজাইনার নুজহাত নাওয়ার, ফারজানা ইউসুফ, সাবা খান, মিস সোহানা, শানিল আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন ফ্যাশন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নারী নেত্রী নাসরিন রব বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের ফ্যাশন ডিজাইনারদের একটা দাবী—দেশের ফ্যাশন শিল্পকে বাঁচাতে হলে বিদেশি ডিজাইনারদের আসাটা কমাতে হবে। কেননা, আমরা যদি আমাদের ফ্যাশন ইন্ড্রাস্টিকে হত্যা করার জন্যে বাইরের দেশের ডিজাইনারদেরকে নিয়ে আসি, তাহলে বিষয়টা অনেকটা দুধের বাচ্চাকে হত্যা করার সমান হবে। আমি এই কথাটাই বলতে চাই যে, আমাদের ফ্যাশন ডিজাইনাররা কষ্ট করে যে ব্ল্যাকবোর্ডটা তৈরি করেছে, সেই ব্ল্যাকবোর্ডে এখন কেউ ঢুকতে পারবে না। স্পষ্ট করে এই দাবির উপর আমাদের ফোকাস করতে হবে। আসলে প্যাসিফিক আইডেন্টিফাই করে কমার্স মিনিস্ট্রি, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে বসে বিদেশি ডিজাইনারদের দেশে আসার বিষয়টা কমাতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সদ্যভূমিষ্ঠ ফ্যাশন ডিজাইনাররা যাতে এই মুহূর্তে বিদেশ থেকে আগত ডিজাইনারদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আমরা সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ কামনা করছি। বাইরের দেশের ডিজাইনারদের আমাদের দেশে নিয়ে আনার জন্যে যে সমস্ত মেয়ে বা দল সাহায্য করছে, তাদেরকে কঠোরভাবে বঞ্চিত করতে হবে। যাতে তারা আর কোন দিন সাহস না পায় আমাদের নতুন প্রজন্মের ডিজাইনারদের ফ্যাশন ইন্ড্রাস্টিকে ধ্বংস করার। আমি একজন উপদেষ্টা হিসেবে এই জিনিষগুলো নিয়ে অনেক কাজ করেছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি—একটা প্লট দিতে হবে। যেখানে আমরা নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য দোকান করে দিতে পারব। সেখানে তারা তাদের ডিজাইন প্রদর্শন করতে পারবে এবং বিক্রি করতে পারবে।’

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট টুটলি রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি একজন উদ্যোক্তা। আমি বিগত ৩৫ বছর ধরে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে কাজ করছি। আমি সাধারণত তাঁতিদের নিয়ে কাজ করি। আমার এখনকার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের পোশাকের ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা। তাঁত শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কিছু সুন্দর কারুকাজের সাথে। এই কাজটা আমি নিজে থেকে করছি। আমার এই কাজে আমাকে কেউ সাহায্য করছে না। আমি আমার নিজ দায়িত্বে প্রতি বছর অনুষ্ঠান করি। আমার আজকের এক সংবাদ সম্মেলনে আসার কারণ হলো—নতুন উদ্যোক্তাদের পাশে থাকা। তাদের সমস্যাগুলোকে ধরিয়ে দেয়া। নতুন উদ্যোক্তাদের হয়তো দোকান নেয়ার ক্ষমতা নেই, কিন্তু তারা বছরে দুই-তিনটা শো করে এবং তাদের নিজের প্রোডাক্টগুলো বিক্রি করে। আমার মতে তারা নতুন হিসেবে অনেক ভাল করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাইরের ডিজাইনাররা তো নিশ্চয় আসবে, কিন্তু ঠিক মতো করে ট্যাক্স দিয়ে আসা, ঠিক মতো করে একটা প্রোগ্রাম করা, তাই যত কম আসবে তত ভালো। আমরা কখনই বাইরের কাউকে সাপোর্ট করবো না। আমরা সবসময় আমাদের ইন্ড্রাস্টিকে সাপোর্ট করি। বাইরের লোকজনের আসাটা যদি আমরা থামাতে পারি, তাহলে আমাদের দেশের ইন্ড্রাস্টি এগিয়ে যাবে।’