জোবাইদা রহমান মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদনে জোবাইদা রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের লিখিত অভিযোগ উঠেছে সাবেক ও ভারপ্রাপ্ত দুই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও কলেজের অর্থ নয়-ছয়সহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। 

গত ২৮ মে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মতিউর রহমান ও মো. শাহ আলম। 

জানা গেছে, জোবাইদা রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসন চাকরি নেওয়ার সুবাধে ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি পদত্যাগ করেন। এরই প্রেক্ষিতে পদটি শূন্য হলে তাৎক্ষণিক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ। নিয়ম লঙ্ঘন করে অদৃশ্য কারণে জ্যেষ্ঠতার দিক দিয়ে চতুর্থ স্থান অধিকারী বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাজী করনী (মানিক)কে ২৩ জানুয়ারি নিয়োগ দেওয়া হয়। কলেজের গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্য প্রতিবাদ জানালেও দীর্ঘদিনেও বিষয়টি সুরাহা করেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ।

modon2

জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রথম স্থান অধিকারী ওই কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মুখলেছুর রহমান জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ নেওয়ার জন্য আমি গভর্নিং বডির সভাপতি বরাবর আবেদন করেছিলাম। কিন্তু নীতিমালা লঙ্ঘন করে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চতুর্থ স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
 
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাজী করনী জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
 
জোবাইদা রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আলম মিয়া বলেন, আমার যোগদানের আগে কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ময়মনসিংহ বিভাগের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, জোবাইদা রহমান মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের অনিয়মের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিদায়ী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অচিরেই কলেজ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।