নোয়াখালীতে মা-মেয়ে হত্যা: আটক আলতাফের স্বীকারোক্তি 

নোয়াখালী শহরের বার্লিংটন মোড় এলাকায় বাসায় ঢুকে মা নুর নাহার ও মেয়ে প্রিয়ন্তীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় আটক মো. আলতাফ হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম। 

বুধবার (১৪ জুন) রাতে নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নম্বর আমলী আদালতের বিচারক এস এম মোছলেহ উদ্দিন মিজান আটক  আলতাফের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

আটক আলতাফ হোসেন লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর মেহের গ্রামের মৃত আবুল কালামের ছেলে। তিনি ওমান প্রবাসী ছিলেন। স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রেস বিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, আদালতে আটক আলতাফ হোসেনকে স্বীকার করে নুর নাহার বেগম তার মেয়ে ফাতেহা আজিম প্রিয়ন্তীকে ধারালো ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে।  তিনি  জানান, নিহত  নুর নাহার বেগমের সঙ্গে ওমান থাকা অবস্থায় তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে নুর নাহার বেগম তাকে বাংলাদেশে এসে হোটেল ব্যবসা করার জন্য ভিসা বাতিল করে চলে আসতে বলেন। আসামি আলতাফ হোসেন ৮ জুন বাংলাদেশে এসে নোয়াখালী পৌর সভার দত্তের হাট জনৈক মাসুদের মেসে উঠে। ১০ জুন সকাল সাড়ে ১০টার সময় নুর নাহারের বাসায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন এবং পরদিন নুর নাহারের কাছে ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলে নুর নাহার দুই দিনের মধ্যে টাকা দিবে বলে জানায়। এর ১২ জুন পরদিন প্রবাসী আলতাফ নুর নাহারের বাসায় গিয়ে তালা বন্ধ পান। বুধবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলতাফ নুর নাহারের কাছে টাকা চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে আসামি আলতাফের সঙ্গে   বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক সময় নুর নাহার তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে পুলিশের ভয় দেখালে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে আসামি আলতাফ তার পকেটে থাকা ছুরি দিয়ে নুর নাহারের গলায় আঘাত করলে তিনি চিৎকার করে মেয়ের রুমে দৌড়ে চলে যান। আলতাফ মেয়ের রুমে গিয়ে নুর নাহারের গলায় এবং ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। ঐসময় তার  মেয়ে ফাতেহা আজিম প্রিয়ন্তী ঘুম থেকে উঠে মাকে বাঁচানোর জন্য চেষ্ঠা করলে আলতাফ তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।

নিহত মা নুরনাহার (৪০) ও মেয়ে ফাতেমা আজিম প্রিয়ন্তি (১৬)। ছবি: সংগৃহীত

নুর নাহার বেগম আটক আলতাফের সঙ্গে প্রতারণা করায় তাকে হত্যা করে, তবে তার মেয়ে ফাতিহা আজিম প্রিয়ন্তীকে হত্যা করার ইচ্ছা তার ছিল না। আসামি স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দেন বলে জানান পুলিশ সুপার।

বুধবার (১৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর বার্লিংটন মোড় এলাকার একটি বাসায় ঢুকে মা ও মেয়েকে চুরিকাঘাতে হত্যা করেছে আটক আলতাফ হোসেন। নিহতরা হলেন ওই বাসার মালিক ফজলে আজিম কচির স্ত্রী নুরনাহার (৪০) এবং তার মেয়ে ফাতেমা আজিম প্রিয়ন্তি (১৬), সে এবার হরিনারায়ণপুর হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।  ঘটনাস্থলে মা এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মেয়ে মারা যায়। এ ঘটনার সময় বাসার মালিক ফজলে আজিম কচি বাসার বাহিরে ও তার একমাত্র ছেলে হরিনারায়ণপুর হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র স্কুলে ছিল।