রাজধানীর আজমপুর কাঁচাবাজার ও সিএনজি পাম্প হয়ে চৈতি গার্মেন্ট পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটারের বেশি সড়ক মাসের পর মাস নোংরা পানির নিচে ডু্বে থাকে। আজমপুর রেললাইন ও উত্তরখান মাজার হয়ে দক্ষিণখান ও উত্তরখান মানুষের চলাচলের অন্যতম রাস্তাটি বৃষ্টি ছাড়াই বেশি ভাগ সময়ই পানিতে তলিয়ে থাকে।
নাকে হাত চেপে হাঁটুপানি পার হওয়া এক পথচারীর জবাব, আপনি কী ভাই দুর্গন্ধ পাচ্ছেন না! বৃষ্টি নেই তো কী হয়েছে! ম্যানহোলের ময়লা পানি তো ঠিকই আসছে রাস্তায়।
এছাড়াও দক্ষিণখান ও উত্তরখান বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টি হলে হাঁটু পানিতে ডুবে থাকে। কাদামাটি আর জলাবদ্ধতায় বাজারে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। দক্ষিণখান ও উত্তরখান মেইন সড়ক ও অলি-গলিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এতে মানুষকে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বৃষ্টি হলেই দক্ষিণখান প্রেমবাগান, গাওয়াই এলাকার মেইনরোডে অনেকটা নৌকা দিয়ে পার হবার মত অবস্থা তৈরি হয়। উত্তরা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরেও দক্ষিণখান ও উত্তরখান এলাকায় মানুষ সিটি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বুধবার (১৪ জুন) সরোজমিনে দেখা গেছে, সামান্য বৃষ্টিতে দক্ষিণখান ও উত্তরখান বেশ কয়েকটি সড়ক ও অলি-গলিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। জলাবদ্ধ সড়কে যানবাহন চলাচলের সময় ছোটভাটো ঢেউয়ের সৃষ্টি হচ্ছে, আর সেই ঢেউ আছড়ে পড়ছে ফুটপাতে।
উত্তরখান এলাকায় আর্ক হাসপাতালে হয়ে আজমপুর সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলগলিতে বৃষ্টির পর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আবার দক্ষিণখান বাজার হয়ে প্রেমবাগান দিয়ে হাজিক্যাম্প এলাকাও একই রুপ।
জলাবদ্ধ সড়কে রিকশায় দক্ষিণখান দিয়ে যাচ্ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী সোনিয়া। তিনি বলেন, অফিসের কাজে বাইরে বের হয়ে বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কবলে পড়লাম। যানবাহন যাওয়ার সময় জমে থাকা পানির ঢেউয়ের মতো গায়ে এসে পড়ছে। আমার জামা কাপড় নষ্ট হয়ে গেল।
একই সময় দক্ষিণখান ও উত্তরখান সড়কে অটোরিকশা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় জলাবদ্ধতার কারণে ইঞ্জিনে পানি ঢুকে স্টার্ট বন্ধ হয়ে গেছে রুবেলের অটোরিকশার।
তিনি বলেন, অটোরিকশা জন্য জলাবদ্ধতা খুব ভয়ের, কারণ যেকোনো সময় স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। আমার আজ তাই হয়েছে। পানি ঢুকে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেছে। পেছনে যানজট লেগে গেছে। উপায় না দেখে এক কথায় দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে নেমে ঠেলেই নিয়ে গাড়ি যেতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই এমন জলাবদ্ধতা যেন রাজধানীতে না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সংশ্লিষ্টদের।
উত্তরখান মাজার এলাকায় বাসিন্দা এনাম বলেন, আজমপুর কাঁচাবাজারের হয়ে মাজার রোড এলাকায় হঠাৎ বৃষ্টিতে বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা-১৮ আসনের এমপি হাবিব হাছান বলেন, এলাকাটি নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে পড়েছে। কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যে সকল ওয়ার্ডে পানি ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে সেই সকল ওয়ার্ড কাউন্সিলরদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
ডিএনসিসির অঞ্চল-৭ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরীন জানান, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ যেন না হয় সেজন্য আমাদের কুইক টিম সার্ভিস চালু আছে। যেখানেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে সেখানে কুইক টিম সার্ভিস কাজ করে। সেই সঙ্গে দক্ষিণখান এবং উত্তরখান কিছু কিছু এলাকায় ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সিটি করপোরেশন পক্ষ থেকে কাজ করতেছি। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ড্রেনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কাজ চলতেছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি এই এলাকার মানুষের সুফল ভোগ করবে।