আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের ইনিংসে অভিষেক ম্যাচেই ফাইফার তুলে নিয়েছেন আফগান পেসার নিজাত মাসুম। দ্বিতীয় দিনের সকালে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস ঘটিয়েছেন মূলত তিনিই। তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। খেলার সেই সময়ই বোঝা যাচ্ছিল যে দিনটা হতে যাচ্ছে পেসারদের আধিপত্যের। আর হয়েছেও তাই। আফগানদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটারদের দাড়াতেই দেয়নি দুই পেসার এবাদত হোসেন ও শরীফুল ইসলাম। এদিন এবাদতের সামনেও ছিল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার তুলে নেওয়ার সুযোগ তবে শেষ অবধি তা আর হয়নি।
দ্বিতীয় সেশনে চা বিরতির পর অধিনায়ক লিটন দাস বোলিংয়ে নিয়ে আসেন দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামকে। আর তারা দুজন তিন ওভারে মধ্যেই আফগানদের শেষ দুই উইকেট নিয়ে নেন। ফলে আর বল হাতেই তুলতে হয়নি এবাদতকে। এ সময় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে কেন এবাদতকে ফাইফারের সুযোগ থাকতেও বোলিংয়ে আনা হলো না? খেলা শেষে অবশ্য এর কারণ জানা যায়। নিজের মুখ থেকে যা জানান এবাদতই।
গতকাল দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন এবাদত হোসেন। এ সময় নিজের ফাইফার শিকার করতে আর বোলিংয়ে না আসর কারণ হিসেবে জানান স্লো ওভার রেটে কথা। মূলত চা বিরতির আগে দুই ওভার পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ আর তাই তা কাভার করতে স্পিনারদের আনেন লিটন। যদি অধিনায়ক এমনটি না করত তাহলে ম্যাচ ফি থেকে জরিমানা গুণতে হতো দলের সবাইকে। এ নিয়ে এবাদত বলেন, ‘যা পেয়েছি (উইকেট), আলহামদুল্লিলাহ। পাঁচ উইকেট হয়নি। জিনিসটা ছিল আমরা দুই ওভার পেছনে ছিলাম। অধিনায়ক আসলে চিন্তা করছিল, আমরা যদি পিছিয়ে থাকি, তাহলে জরিমানার একটা ব্যাপার থাকে। তখন বলছিল যে, আমি দুই পাশ থেকে দুই স্পিনারকে দিয়ে শুরু করব। চা বিরতির পরে। যেহেতু টিম ফার্স্ট সেদিক দিয়ে ঠিক আছে। যেহেতু ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকে আমার কাছে দলের চাওয়াটা বড় বিষয়।’
এ সময় আফগানিস্তানদের ইনিংসে নিজের অগ্নিঝড়া বোলিংয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যে উইকেটগুলো পেয়েছি সেগুলো কিন্তু টানা বাউন্সার করার ফলে না। আমি দ্বিধায় ফেলেছি ব্যাটসম্যানকে সামনে বল ফেলে ফেলে। পরে সারপ্রাইজ বাউন্স দিয়ে। যে জিনিসটা হচ্ছে যে, ইনসুইং, আউটসুইং, বাউন্সার আগে ওভারে দুই তিনটা করতাম। ব্যাটসম্যানকে আস্তে আস্তে উইকেটে সেট করে দেন সারপ্রাইজ বাউন্স দিয়ে।’
এদিকে মিরপুরে সচরাচর স্পিনবান্ধব উইকেট বানানো হয়। তবে এবার যেন ব্যতিক্রম করা হয়েছে উইকেটে। স্পিনারদের তুলনায় পেসারাই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেখেন আমার দেখা বাংলাদেশে প্রথম এই রকম উইকেট আমরা পেয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা যে, তিনটা ফাস্ট বোলার টেস্টে, এই রকম উইকেটে খেলা এটা আমাদের অনেক বড় একটা সৌভাগ্য। সো আমরা চেষ্টা করছি যে, ওদেরকে যত কম রানে আউট করা যায়। প্ল্যানিং করে। আসলে প্ল্যানটা এক্সিকিউট করতে পারছি। এটাই সবচেয়ে বড় জিনিস।’
এবাদত আরও বলেন, ‘বাউন্স তো আমরা পরিকল্পনা থেকে করতে পারব না। এটা তো উইকেট থেকে পেয়েছে। ঐ জিনিসটাই। যেহেতু উইকেটে বাউন্স ও পেস আছে, সো আমরাই ঐটাই জাস্ট একটু রিফলেক্ট করার চেষ্টা করেছি। আমরা একটু ইউজ করছি, বাউন্স ও পেস জিনিসটা। আর এখানেই ওরা একটু স্ট্রাগল করেছে।’