কাপ্তাইয়ে বিপজ্জনকভাবে বাঁশ পরিবহন, দুর্ঘটনার ঝুঁকি

রাঙামাটির কাপ্তাই থেকে প্রতিদিন ট্রাক ভর্তি করে হাজার হাজার বাঁশ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হচ্ছে। তবে এই বাঁশ পরিবহনে ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে।

ট্রাকের উচ্চতার চেয়ে ডবল উচ্চতা নিয়ে বাঁশ ট্রাকে তোলা হয়। বিশাল উচ্চতার বাঁশ ট্রাকে নিয়ে পাহাড়ি পথে চলতে গিয়ে যেকোনো মুহূর্তে বাঁশসহ ট্রাক উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এভাবে অনেকবার ট্রাক উল্টে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও এভাবে বাঁশ পরিবহন থামছে না বলে ঝুঁকির বিষয়ে স্বীকার করেছেন এই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি কাপ্তাই রাঙামাটি সড়কের সাপছড়ি এলাকায় একটি ট্রাক বোঝাই করতে দেখা গেছে। ওই ট্রাকে সর্বোচ্চ তিন হাজার বাঁশ লোড করার কথা থাকলেও ট্রাকে তোলা হয়েছে চার হাজার বাঁশ। ট্রাকে আর বাঁশ রাখার মতো কোনো অবস্থা না থাকা সত্বেও রশি দিয়ে এবং বড় লাঠি দিয়ে চেপে চেপে ট্রাকে বাঁশ তোলা হচ্ছিল।

ট্রাকচালক জসিম উদ্দিন জানান, আমরা এর চেয়েও বেশি বাঁশ লোড করি। সড়কে ভয় করলে গাড়ি চালানো যাবে না বলেও তিনি জানান।

দুর্ঘটনায় জীবনহানির ঘটনা ঘটতে পারে এমন কথার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বাঁচা-মরা আল্লাহর হাতে।

এছাড়া পথে ট্রাফিক বা পুলিশ ধরলে সেটা ম্যানেজ করার ব্যবস্থা জানা আছে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় বাঁশ ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই আমরা বাঁশের ব্যবসা করে আসছি। ফুল লোড করে বাঁশবোঝাই না করলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে। আর এতে বাঁশের দামও বাড়বে। তাই আমরা একসঙ্গে যতপরিমাণ বাঁশ পরিবহন করা সম্ভব তাই করি। এভাবে বাঁশ পরিবহনের সময় একাধিকবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। তারপরেও চরম ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কাপ্তাই থানার ওসি (তদন্ত) আল-আমিন বলেন, অতিরিক্ত বাঁশবোঝাই কোনো ট্রাক যাতে কাপ্তাই থেকে বের হতে না পারে সেজন্য রেশমবাগান পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও বাঁশ ব্যবসায়ীদের ট্রাকে অতিরিক্ত বাঁশ পরিবহন করতে নিষেধ করা হয়েছে।