এ সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফি। নিজের মেধা যোগ্যতায় তার চলচ্চিত্রের প্রতি কৌতুহলী করে তুলতে পেরেছেন। ঈদে আসছে তার নতুন চলচ্চিত্র ‘সুড়ঙ্গ’। কথা বলেছেন নিজের ছবি ও সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট নিয়ে। লিখেছেন তারিফ সৈয়দ।
ঈদে ‘সুড়ঙ্গ’ নিয়ে আপনার আশাবাদ কতটুকু? শুনতে চাই—
প্রথমত ২২ বছর পর আফরান নিশো কোনো ছবি করতে রাজি হলেন। গত ২২ বছর ধরে তাকে চলচ্চিত্রের জন্য অফার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দর্শকরা অপেক্ষা করে আছেন তার চলচ্চিত্রের জন্য। তাই আমি মনে করি দর্শকরা ঈদে ছবিটি দেখার জন্য আকুল হয়ে আছেন। আমরা শুধু নিষ্ঠার সাথে ছবিটা ভালো করে বানানোর চেষ্টা করেছি।
কিন্তু আপনি শাকিবের সাথে ‘প্রেমিক’ ছবিটা তৈরির ঘোষণা দিয়েও কেন পিছিয়ে গেলেন?
এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝি আছে। কারণ ‘সুড়ঙ্গ’ ছবির গল্প এই ছবি নিয়ে প্ল্যান দীর্ঘদিনের। এটা আমার অনেকদিনের লালন করা একটা গল্প। তো এর মাঝে শাকিব ভাই আমেরিকা থেকে আসার পর একটি গল্প নিয়ে কথা হলো। ঐদিনই তিনি ফেসবুকে ঘোষণা করে দিলেন। আমি ভেবেছিলাম সুড়ঙ্গের কাজটি শুরু হওয়ার আগে এই ছবিটি তৈরি করে ফেলবো। কিন্তু সুড়ঙ্গ টিমটা রাজি হলো না। এছাড়া ‘প্রেমিক’ ছবিটির প্রযোজকের সাথেও আমার কাজ ও সময় মেলানো গেল না। তাই কাজটি আর হয়নি। শাকিব ভাই কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু এখানে শাকিব ভাইয়ের কোনো দোষ নেই।
‘সুড়ঙ্গ’ ছবিতেও তো আপনি শাকিব খানকে ভাবতে পারতেন?
দেখুন, আমার ছবিতে গল্পটাই হিরো। আমি আমার গল্পটা আগে ঠিক করি। এরপর সেই অনুযায়ী কাস্টিং ঠিক করি। সেক্ষেত্রে নিশো ভাই ছিল সুড়ঙ্গের জন্য আমার প্রথম পছন্দ। যদি সুড়ঙ্গে আমি তাকে না পেতাম তাহলে হয়তো রাজকে নিতাম। রাজকে না পেলে হয়তো কলকাতা থেকে কাউকে নিতাম।
বলা হচ্ছে, আপনার সুড়ঙ্গ চলচ্চিত্রে বেশকিছু বিষয়ে নকলের প্রভাব আছে। এছাড়া যে টিজার ছেড়েছেন সেটার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকটাও নকল!
এ সকল হাস্যকর অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে চাই না। তবুও আমি ক্লিয়ার করি। প্রথমত, ছবিটার গল্প এখনও প্রকাশিত না। ছবিটা রিলিজ না হওয়া পর্যন্ত আপনি নকল না আসল এটা বলতে পারেন না, এটা অন্যায়। আরেকটি কথা, সারা পৃথিবীতে বিশ্বমানের কম্পোজাররা বিভিন্ন মিউজিক স্কোর বিক্রি করে থাকেন। বিশেষ করে ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের জন্য আলাদা কেনাবেচার সাইট আছে। এটা আমাদের ক্রয়কৃত মিউজিক এবং আমরা সেটির ক্রেডিটও দিয়ে দিয়েছি।
আপনি বারবার বলছেন পরাণের পর এটি আপনার দ্বিতীয় ছবি। কিন্তু পরাণের পর তো দামাল প্রকাশ পেয়েছিল। সেটাকে কেন মেনশন করছেন না?
দামালের কথাও বলেছি। আর দামাল মূলত পরাণের আগে করা। হয়তো রিলিজ পরে পেয়েছে। দামাল মুক্তিযুদ্ধের ছবি। আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধের ছবিকে কখনও বাণিজ্যিক ক্যাটাগরিতে মূল্যায়ন করা হয় না। দামাল ছবি রিলিজের সময় অনেক ডিস্ট্রিবিউটর আমাকে বলেছে, ভাই ছবির পোস্টারে ‘মুক্তিযুদ্ধের ছবি’ কথাটা লেখবেন না প্লিজ। আমি অবাক হয়েছি। কারণ এদেশে এ ধারার ছবির দর্শক কম। সবার ধারণা এ ধরনের ছবি ব্যবসাসফল হবে না।
সুড়ঙ্গ ছবির যেকোনো একটি অভিজ্ঞতা শুনতে চাই—
ছবির লোকেশনে আমরা প্রায় ১ মাস ধরে সুড়ঙ্গ তৈরি করি। তখন অনেকেই আমাকে ও আমাদের টিমকে পাগল বলেছিল। নানারকম কথা শুনিয়েছিল। হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু টিজার প্রকাশের পর থেকে তারাই বাহবা দিচ্ছেন। এটাই আসলে আমাদের মুভির শক্তি। কী হবে, কী ঘটবে? কেউ আগে থেকে বুঝতে পারবে না।
আপনার পরাণ জুটি রাজ ও মীমকে নিয়ে আর কোনো কাজের প্ল্যান কী আছে? শোনা যায়, মীম-পরীর ঐ বিবাদের পর আর এই জুটিকে নিয়ে আপনি ভাবছেন না!
দেখুন, এটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর আমি অবশ্যই আমার যদি এমন কোনো গল্প তৈরি করতে পারি যেখানে মীম-রাজকে লাগবে সেখানে তাদের অবশ্যই অফার করবো। রাজকে নিয়ে আমার একটি ভাবনা অবশ্য আছে। তবে মীম রাজের সাথে কাজ করবে কি-না সেটিও একটা বড় প্রশ্ন। সে হয়তো এই ঝামেলায় জড়াতে চাইবে না।
কিন্তু অভিযোগ আপনাকে নিয়েও তো পরী করেছিল। বলেছিল, আপনিই নাকি মীম রাজের সম্পর্ক বা পরী-রাজের সংসারের জটিলতা তৈরি করছেন...
দেখুন, আমার সামনে যদি কাউকে নিয়ে পরী-রাজ ঝগড়া শুরু করে তাহলে কী আমি তা থামাতে চেষ্টা করবো না। ব্যাপারটা সেরকমই। অথচ আমাকে খামাখা ব্লেইম করা হলো।
শোবিজে চলচ্চিত্রের চেয়ে এর বাইরের সম্পর্ক আর কাজ নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। তারকা ইমেজ বা এ ধরনের কুটতর্ক চলচ্চিত্রের ক্ষতি করে কি-না?
দুটোই কমবেশি ক্ষতি করে। দেখুন, ‘দামাল’ রিলিজের সময় ঐ কন্ট্রোভার্সি ছবিটার ওপরে প্রভাব ফেলেছিল। তাই আমি বলবো, পুরোটা প্রভাব না ফেললেও এটা ক্ষতি করে।
ঈদে শাকিব খানে ‘প্রিয়তমা’কে কতটা প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন?
সবচেয়ে বড় কথা হলো, ছবি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটা একটা পজিটিভ দিক। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কিছু নেই। আর এর সাথে আমাদের মুভি কন্টেন্টে কোয়ালিটি কিছু দিতে পারলে অবশ্যই ভালো করবে। আমাদের আশির দশকে একইসাথে কয়েকটি ছবি হিট করেনি? করেছেতো! তাহলে প্রিয়তমা, সুড়ঙ্গসহ কয়েকটি ছবি ব্যবসাসফল হলে ক্ষতি কী ? বরং ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একইসাথে অনেকগুলো ছবির সফলতা প্রয়োজন।