লক্ষ্মীপুরে ৩০০ টাকায় মিলছে ‘স্বপ্নযাত্রা’র অ্যাম্বুলেন্স সেবা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে প্রশাসনের ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সেবা। ১০ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে  জরুরি দিচ্ছে ‘স্বপ্নযাত্রা’র অ্যাম্বুলেন্সগুলো। উপজেলা প্রশাসনের নিঃস্ব তহবিল থেকে ৩টি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বল্প খরচে অ্যাপভিত্তিক এ অ্যাম্বুলেন্স সেবায় বেশি উপকৃত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অটোরিকশা বা ইজিবাইকের বদলে স্বজনরা রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত ও নিরাপদে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারছেন।

ছবি: ইত্তেফাক

জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে রায়পুর উপজেলায় শুরু হয় ‘স্বপ্নযাত্রা’ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে রোগীদের সেবায় কাজ করছে ৩টি অ্যাম্বুলেন্স। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। এক বছরে 'স্বপ্নযাত্রা'র অ্যাম্বুলেন্স প্রায় ১৫০০ রোগীকে অল্প ভাড়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ও জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘স্বপ্নযাত্রা' অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বল্প খরচে উন্নত সেবাতে সবার নজর কেড়েছে ‘স্বপ্নযাত্রা'। তাই চাহিদার কথা বিবেচনা করে অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যাও বৃদ্ধি করেছে জেলা প্রশাসন।

রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিউল আজম বলেন, স্বপ্নযাত্রা অ্যাম্বুলেন্স সেবার মাধ্যমে আমার এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের যথেষ্ট স্বপ্নপূরণ হচ্ছে। পাবলিক অ্যাম্বুলেন্সের মতো এত ভাড়া দেওয়া লাগে না। গ্রামের রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে জেলা ও উপজেলা শহরের হাসপাতালে স্থানান্তর করতে বলা হয়। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দেড়-দুই হাজার টাকা ভাড়া লাগে। অনেকে সিএনজি অটোরিকশা বা ইজিবাইকে করে রোগীদের নিয়ে যান। কিন্তু এতে রোগীরা অনেক কষ্ট পান। এখন কম খরচে ‘স্বপ্নযাত্রা'র অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছে।

‘স্বপ্নযাত্রা’র আহ্বায়ক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল ইকবাল বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে চলছে এ কার্যক্রম। অ্যাম্বুলেন্সগুলোর জন্য ৩ জন চালক নিয়োগ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ অ্যাম্বুলেন্সগুলোর তত্ত্বাবধান করছে। অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও তেল খরচ রোগী পরিবহনের আয় থেকেই মেটানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন দাশ বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি অ্যাপভিত্তিক সেবা।   কার্যক্রমটি চালুর পরপরই ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। সারা দেশে এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে পারলে মৃত্যুহার কমবে। এ উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।