নড়াইলে গ্রাহকের প্রায় ৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় চলন্তিকা যুব সোসাইটির চারজন কর্মকর্তা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রবিবার (২৩ জুন) এবং সোমবার নড়াইলের কালিয়া আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোরশেদুল আলমের নিকট আসামিরা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এদিকে মামলার এজাহার নামীয় আসামি চলন্তিকার নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মনিরুজ্জমান এবং অসিত দাসকে গ্রেফতার করেছেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা। মামলায় এ পর্যন্ত ১৬ জন আসামির মধ্যে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০০৪ সাল থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত চলন্তিকা যুব সোসাইটি নামের একটি এনজিও নড়াইলের ৫টি, বাগেরহাটের ২টি এবং খুলনার ৩টি শাখা থেকে ৩১ কোটি ৫৯ লাখ ৫৭ হাজার ৭৪০ টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ও তিনগুণ মুনাফার লোভ দেখিয়ে ডিপিএস এবং ফিক্সড ডিপোজিটের (এফডিআর) নামে গ্রহণ করে। পরে মেয়াদ শেষে লভ্যাংশসহ টাকা ফেরত দেওয়ার সময় হলে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে গ্রাহকদের টাকা না দিয়ে সব অফিস বন্ধ করে দেয়।
আরও পড়ুন: উপ-নির্বাচন বগুড়া-৬: বেসরকারি ভাবে বিএনপি প্রার্থী সিরাজ নির্বাচিত
এ ঘটনায় গত ১০ জুন নড়াইলের কালিয়া থানায় টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এনজিওটির ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে (অজ্ঞাত আরও অনেকে) মামলা হয়। এর আগে ওইদিন ঢাকা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম স্কোয়াডের সদস্যরা খুলনা থেকে এনজিওর জনসংযোগ কর্মকর্তা দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, এনজিওটির কর্মকর্তা মিলন দাস, সজল দাস এবং প্রনব দাসকে গ্রেফতার করে নড়াইলের কালিয়া থানায় হস্তান্তর করেন।
ঢাকা সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম স্কোয়াডের সদস্য মামলার আইও এসআই অনুপ কুমার দাস জানান, রবিবার (২৩ জুন) বিকেলে দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক ও তিনজন এনজিও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিন দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তিতে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে চলন্তিকার নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মনিরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রবিবার বিকেলে আদালতে গ্রেফতারকৃতরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া আদালত সোমবার এ মামলার প্রধান আসামি এনজিওটির চেয়ারম্যান মো. খবিরুজ্জামান ও নির্বাহী পরিচালক মো. সরোয়ার হুসাইনের তিনদিনের এবং দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদককে আরও দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।
ইত্তেফাক/অনি