ফুটওভারব্রিজ  নির্মাণে নেই অগ্রগতি

রাজধানীর পথচারীদের যাতায়াতের সুবিধা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বেশ কিছু নতুন ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যমান ফুটওভার ব্রিজগুলো উন্নয়নের কাজও হাতে নেয় উত্তর সিটি করপোরেশন। সে অনুযায়ী গত বছরের জানুয়ারি থেকে এসব কাজ করার জন্য ঠিকাদার নিযুক্ত হলেও কাজ এগোয়নি। বেশ কিছু জায়গায় কাজও শুরু করা যায়নি। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে। 

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ফরহাদ হোসেনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি। তবে মেয়র আতিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, এ বিষয়ে যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা হবে। কোথাও কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনদুর্ভোগ লাঘবে উত্তর সিটি কোনো পর্যায়ে কারো সঙ্গে আপস করবে না।

জানা যায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি, এপ্রিল ও নভেম্বর মাসে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ইমপ্রুভমেন্ট অব ইনফাস্ট্রাকচার অ্যান্ড রোড সেফটি প্রকল্পের আওতায় উত্তরা, মিরপুর, মহাখালী, কাওরান বাজার ইত্যাদি স্থানসমূহের বিভিন্ন পয়েন্টে ৩৫টি নতুন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ও ৪২টি ফুটওভারব্রিজ উন্নয়ন কাজের জন্য বিভিন্ন অযোগ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়। যদিও ডিপিপি ও সরকারি আইনকানুন বিধিবিধান অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ করার কোনো সুযোগ ছিল না। অথচ অজ্ঞাত কারণে তাদের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যাদেশ প্রদানের ১২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও কাজের তেমন কোনো ভৌত অগ্রগতি হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ে কাজগুলো সম্পন্ন হওয়া নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যেসব ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে তাদের কারোই টেন্ডার ডকুমেন্টে উল্লিখিত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের আবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই।

সিটি করপোরেশনের শর্তানুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাজ করতে হলে,  ঠিকাদারের ন্যূনতম পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে ন্যূনতম একটি নতুন ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অর্থাত্ বিগত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা না থাকলে  ফুটওভার নির্মাণ কাজের জন্য ঠিকাদার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।  পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ এবং টেন্ডার ডকুমেন্টেও এই নির্দেশনা রয়েছে। প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এর ৬৪ ধারায় সতর্ক করা হয়েছে এই আইনের অধীন পণ্য বা সেবা কর্ম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক এই বিধান লঙ্ঘন করা হলে বা লঙ্ঘন করার চেষ্টা করা হলে তা পেশাগত অসদাচরণ এবং অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব নতুন ফুট ওভারব্রিজ সময়মতো  নির্মাণ না হওয়ার পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত এসব ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন করে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করা হোক।